জুনের শেষ দিকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ী রাজ্য সিকিমে একদল চীনা সৈন্য সীমান্ত অতিক্রম করে দুইটি বাঙ্কার গুঁড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ করে ভারত।
চীনের দাবি, সীমান্তের ওই এলাকা তাদের ভূখণ্ডের অংশ।দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে প্রায় ৩৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলা হয়, “ওই ঘটনার পর একমাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে এবং ভারত এখনও অবৈধভাবে শুধু চীনের ভূখণ্ডে অবস্থানই করছে না বরং সেনা ও রসদ জড়ো করার পাশাপাশি সেখানে পৌঁছানোর সংযোগ সড়কও মেরামত করছে।”
“নিশ্চিতভাবেই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এ কাজ করা হচ্ছে না।”
যদিও ভারতের পক্ষ থেকে সীমান্তে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পার্লামেন্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ২০১২ সালের ‘দ্য বর্ডার ইন্টারসেকশন’ চুক্তি অনুযায়ী উভয় দেশের মধ্যে আলোচনার প্রস্তাব দেন।
তিনি বলেন, “দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে ভারত-চীন সীমান্তে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-শর্ত বলে সবসময় বিশ্বাস করে ভারত।”
“সীমান্তে চলমান সমস্যার পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য আমরা চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক উপায়ে আলোচনার পথ খোঁজা অব্যাহত রাখবো।”
চীনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, জুনের শুরুতে চীনের ডংলাং অঞ্চলের একটি মালভূমিতে সড়ক নির্মাণে বাধা দেয় ভারতীয় সেনারা।
এরপর চীন নিয়ন্ত্রিত একটি ভ্যালির কাছে উভয় দেশের সেনারা বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।
ওই ভ্যালি ভারতকে প্রতিবেশী দেশ ভুটান থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে এবং চীনকে তথাকথিত ‘চিকেনস নেক’ এ প্রবেশের পথ করে দিয়েছে।
‘চিকেনস নেক’ দিয়েই ভারত তাদের উত্তরপূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।
মালভূমির যৌথ সীমান্তে সড়ক নির্মাণের কারণে গুরুতর নিরাপত্তা উদ্যোগ প্রকাশ করে চীনকে সতর্ক করেছিল ভারত।
বিআরআইসিএস নেতাদের সম্মেলনে যোগ দিতে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

Post a Comment