নারী পুরুষের মধ্যকার যে প্রেম ইসলাম কি তা সমর্থন করে?

প্রেম না করে বিয়ে করলে অনেকটা জুয়া খেলার মতো হয়ে যায়- এটা হচ্ছে একেবারে ভ্রান্ত ধারণা। একবার একজন খুব পন্ডিত লোক আমাকে বললেন, ডেটিং না হলে পরস্পরকে বোঝা যাবে না। বিয়ের পর মিল হবে কি না হবে- এর জন্যে ডেটিং দরকার। বিয়ে হওয়ার আগে সব জেনে বুঝে নিলেন, বিয়ের পরে আর সমস্যা হবে না। আমি বললাম, যদি ডেটিং হলেই বিয়ে স্থায়ী হতো তাহলে আমেরিকাতে বিবাহ বিচ্ছেদের হার এত বেশি কেন? আমেরিকাতে তো ডেটিং-মেটিং সবকিছু করে তারা বিয়ে করে। ফলে বিয়ের পর তাদের যা বাকি থাকে তাহলো বিটিং বা প্রহার। তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের হার তাই ৭০/৮০%। অশান্তির কথা তো বাদই দিলাম। অতএব প্রেম না করলে বিয়ে করলে জুয়া খেলা হয় এটা একটা ভ্রান্ত ধারণা।

আর এই বিয়ের আগে দৈহিক সম্পর্ক করা- একজন মেয়ের জন্যে এটা সবচেয়ে বড় ভুল কাজ। কারণ শারীরিক সম্পর্ক করার পরে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মেয়েটির প্রতি ছেলেটির আকর্ষণ কমতে থাকে। ছেলেটি তখন মেয়েটির ব্যাপারে সন্দেহবাতিকগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ভাবে যে আমার সাথে যেহেতু এত সহজে খোলামেলা হতে পেরেছে তাহলে অন্য যেকারো প্রতিও হতে পারে। অতএব, মেয়েদের এ ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকা উচিত যে বিয়ের আগে এমন কোনো সম্পর্কে না জড়ানো যার জন্যে অনুশোচনা করতে হয়। যার জন্যে নিজেকে প্রতারিত মনে হতে পারে। দ্বিতীয়ত, রসুলুল্লাহ (স) এবং খাদিজা (রা) এর মধ্যে প্রেম ছিলো কি না। এরকম কোনো বিবরণ কোথাও নেই। কারণ রসুলুল্লাহ (স)-এর জীবনের সবকিছু পরিষ্কার। ছোটবেলা থেকে শুরু করে ওফাত পর্যন্ত প্রত্যেকটা ঘটনা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ রয়েছে। এরকম কোনো যদি ঘটনা ঘটতো ইতিহাসে অবশ্যই এর উল্লেখ থাকতো। এটা ঠিক যে রসুলুল্লাহ (স) মা খাদীজার ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন। সে হিসাবে স্বাভাবিকভাবেই সুসম্পর্ক ছিলো, বিশ্বস্ততা ছিলো এবং মা খাদিজা তাকে এত বেশি বিশ্বাস করতেন যে, নিজের ব্যবসার পুরো দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছিলেন। তারপরে বিয়ের ব্যাপারে যখন মা খাদিজার তরফ থেকে প্রস্তাব ছিলো তখন রসুলুল্লাহ (স) শর্ত দিলেন যে যা সম্পদ আছে তা আগে বিতরণ করে দিতে হবে। মা খাদিজা তাঁর সমস্ত সম্পত্তি বিতরণ করে দেয়ার পর তাঁদের বিয়ে হয়।
মা খাদিজা তাঁকে কত ভালবাসতেন! নবীজি (স) যখন হেরাগুহায় ধ্যানসাধনা করতেন তখন প্রতিদিন তিনি সেখানে খাবার নিয়ে যেতেন। যারা হজে গিয়েছেন তারা বুঝতে পারবেন হেরা গুহায় ওঠা কীরকম পরিশ্রমের কাজ ছিলো। সেই পাহাড়ে মা খাদিজা প্রতিদিন যেতেন ধ্যানমগ্ন নবীজি (স) এর জন্যে খাবার নিয়ে। তখন তিনি ৫৫ বছর বয়সের একজন নারী। অর্থাৎ কি পরিমাণ মমতা ছিলো, ভালবাসা ছিলো।
আর প্রেম করে বিয়ে করলেই যে তা সুখের হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ প্রেমের সময় চোখে থাকে রঙিন চশমা। তখন একে অপরের ভুলগুলো চোখে পড়ে না। এসব ধরা পড়ে যখন বিয়ে হয়। বাস্তব দুনিয়ার বিষয়গুলো সামনে এসে দাঁড়ায় তখন।

Post a Comment

[blogger]

MKRdezign

{facebook#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {twitter#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {google-plus#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {pinterest#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {youtube#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {instagram#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL}

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget