বগুড়ায় কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’ ও মা-মেয়েকে ন্যাড়া করার ঘটনায় মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে যে জবানবন্দি দিয়েছেন তাতে শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার ও তার স্ত্রীর বড় বোনের অপরাধের তথ্য দিয়েছেন তারা।


মুন্না ও আতিক নামে তুফানের দুই সহযোগীর জবানবন্দিতে মেয়েটিকে জোর করে তার বাড়িতে নেওয়া এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি কিনে দেওয়ার কথা উঠে এসেছে।
ওই কলেজছাত্রী ও তার মায়ের মাথা মুণ্ডনকারী নরসুন্দরও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তুফানের স্ত্রীর বড় বোন বগুড়া পৌরসভার কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকির নির্দেশে তা করার কথা বলেছেন তিনি।
এদিকে শুক্রবার তুফানকে ও রুমকিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে বলে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন। এর আগে তুফানকে দুই দফায় পাঁচদিন এবং রুমকিকে চারদিন জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
গত ২৮ জুলাই ওই কিশোরীর মায়ের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, এবার এসএসসি পাস করা তার মেয়েকে ভালো কলেজে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে গত ১৭ জুলাই ও পরে কয়েকবার ধর্ষণ করেন তুফান সরকার। জাতীয় শ্রমিক লীগ বগুড়া শহর শাখার আহ্বায়ক তুফানকে এ কাজে সহায়তা করেন তার কয়েকজন অনুসারী।
ঘটনা জানাজানির পর তুফানের স্ত্রী আশা ও তার বোন কাউন্সিলর রুমকিসহ ‘একদল সন্ত্রাসী’মা-মেয়েকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধরের পর নাপিত দিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেয়।
মামলার পর ঘটনাটি গণমাধ্যমে এলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়; এরপর তুফানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে জাতীয় শ্রমিক লীগ।
তুফানসহ মামলার এজাহারভুক্ত ১০ আসামির মধ্যে নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে তুফানের সহযোগী আতিক (২৩) ও মুন্না এবং নরসুন্দর জীবন রবিদাস আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ জানান, জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেয়েটির পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেয়েছেন তারা।
“মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়া গেছে; সেটা পজিটিভ। ধর্ষণের আলামত মিলেছে।”
তুফান জোর করে কয়েক দফায় ওই মেয়েকে তার বাসায় নিয়ে আসে বলে শুক্রবার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আহসান হাবিবের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন মুন্না।
ওই ঘটনার প্রেক্ষাপটে কাউন্সিলর রুমকির নেতৃত্বে ওই কিশোরী ও তার মায়ের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার কথাও তিনি স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত কর্মকর্তা আজাদ জানান।
মুন্নার আগে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আতিকও তুফানকে মেয়েটিকে ‘ধর্ষণে সহযোগিতার কথা স্বীকার’ করেছেন বলে জানান তিনি।
পুলিশ পরিদর্শক আজাদ বলেন, ধর্ষিত কিশোরী যেন গর্ভবতী না হয় সেজন্য তুফানের কথামতো জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি এনে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আতিক।
আর নাপিত জীবন রবিদাস জবানবন্দিতে কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকির নির্দেশে ওই কিশোরী ও তার মায়ের মাথা মুণ্ডন করে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
আজাদ বলেন, প্রথমে মুন্না ডাকতে এলে না গেলেও পরে আতিক এসে তাকে নিয়ে যাওয়ার পর কাউন্সিলর মারজিয়া হাসানের নির্দেশে মা-মেয়ের মাথা মুণ্ডনের কথা জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন রবিদাস।
মাথার চুল কেটে দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

Post a Comment

[blogger]

MKRdezign

{facebook#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {twitter#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {google-plus#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {pinterest#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {youtube#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {instagram#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL}

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget