April 2019


মুলাদী প্রতিনিধিঃ 
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ২.৩০মিনিটে মুলাদী উপজেলার ছবিপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের নোমান আকনের বাড়ী থেকে সেবনের সরংজাম ও ১০৫পিচ ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার-২। থানা সূত্রে জানা গেছে ভেদুরিয়া গ্রামের আ ঃরব মুন্সীর পুত্র ফরিদ মুন্সী (৩২) ছোট লক্ষ্মীপুর গ্রামের খলিল সিকদারের পুত্র সজিব (২৫) কে সফিপুুর পুলিশ ফারির এএসআই আকতার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে তাদের হাতেনাতে ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার করে।  ইয়াবা সম্্রাট ফরিদ মুন্সী দীর্ঘদিন যাবৎ বিরদর্পে লক্ষ লক্ষ পিচ ইয়াবা মুলাদীতে ব্যবসা করে আসছে। এলাকা সূত্রে জানাযায় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের পক্ষে বড় ধরনের নেতাদের হাতও রয়েছে। ইয়াবা সেবন কারীদের ধরার পরে কে বা কাহারা ছাড়িয়ে নিতে তদবির করেছে এবং তদন্ত কর্মকর্তাকে উর্ধতম ব্যক্তিরা ফোন দিয়ে সাজানো নাটক বলে ছেরে দেয়ার জন্য তদবীর করা হয়েছে। মুলাদী থানা পুলিশ কোন কিছুর কর্নপাত না করে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রক্রিয়া চলছে।


মুলাদী প্রতিনিধি :
 মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের রামচর গ্রামের মৃত: হাকিম সরদারের মেয়ে এ.বি.আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়েল ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী মোসা: লিয়া আক্তারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানাগেছে গতকাল সন্ধা ৬ ঘটিকার দিকে লিয়া আক্তার তাদের বসত ঘরের আড়ার সাথে শাড়ী কাপড় দিয়ে সম্ববত আতœহত্যা করেছে। তবে কি কারনে আতœহত্যা করেছে তার কোন কারন জানা না গেলেও লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় নিহত লিয়া আক্তার একটি চিরকুট লিখে রেখেছে তাতে লেখা রয়েছে আমাকে ও আমার বড় আপু রিমা কে নিয়ে একজন খুব খারাপ কথা ও ডিষ্টাব  করত তাই আমি অনেক দূরে চলে যাচ্ছি, এ লেখা তোমারা যখন পড়বা তখণ আমি আর তোমাদের মাঝে থাকব না, তবে কে খারাপ কথা বলছে সেটি লিখে যায়নি, এটি যখন চারিদিকে প্রচার হয়ে যায় তার কিছু ক্ষনের মধ্যেই চিরকুটি আর পাওয়া যায়নি এলাকাবাসির ধারনা চিরকুটটি কেউ গায়েব করেছে। লোকজন আরও জানান শান্ত ও মেধাবী লিয়া আক্তার আত্মহত্যা করতে পারে এটা মানতে কষ্ট হচ্ছে আত্মহত্যার কোন কারন খুঁজে পাচ্ছি না। তবে সুষ্ঠ তদন্ত করলে এর অন্য কোন কারন বের হতে পারে। নিহতের মায়ের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ার কারনে সম্বব হয়নি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মুলাদী থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা লাশটি সুরতাহল রিপোর্টে জন্য রওয়ানা হয়েছে।  এ ঘটনায় নিহতের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া ।


বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন বিএসসির বহরে বর্তমানে পাঁচটি জাহাজ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ, দুটি বহুমুখী ও দুটি লাইটারেজ ট্যাঙ্কার। দেশের ৯০ শতাংশ আমদানি-রফতানি সমুদ্রপথে সম্পন্ন হয়ে থাকে।
ফ্ল্যাগ প্রটেকশন আইন অনুযায়ী অন্তত ৫০ শতাংশ মালপত্র জাতীয় পতাকাবাহী জাহাজে পরিবহন করতে হয়। কিন্তু জাহাজ স্বল্পতার কারণে বিদেশি জাহাজে পণ্য আমদানি-রফতানি করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বছরে ১৩ থেকে ১৪ কোটি টন জ্বালানি তেল আমদানি করে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) চীন থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও ছয়টি জাহাজ কিনতে চায়। তেল ও কয়লা পরিবহনে এগুলো ব্যবহার করা হবে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৯৭ কোটি টাকা। এ জন্য দেশটির কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার আশ্বাসও পাওয়া গেছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ছয় জাহাজের মধ্যে পরিশোধিত তেল পরিবহনে এক লাখ থেকে এক লাখ ২৫ হাজার ডেড ওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) ধারণ ক্ষমতার মাদার ট্যাঙ্কার কেনা হবে দুটি। এ দুই মাদার ট্যাঙ্কের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ডলার। দুটি ডিজেল পরিবহন উপযোগী ৮০ হাজার ডিডব্লিউটি ধারণ ক্ষমতার অয়েল ট্যাঙ্কারের মূল্য ধরা হয়েছে ৯ কোটি টাকা।

কয়লা পরিবহনে কেনা হবে ৮০ হাজার ডিডব্লিউটি সম্পন্ন দুটি মাদার বাল্ক্ক ক্যারিয়ার। এ দুটি জাহাজের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় কোটি ডলার। আমদানি শুল্ক্ক ও অন্য খচরসহ প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে দুই হাজার ১৬৯ কোটি টাকা। ২০২১ সালের মধ্যে এসব জাহাজ কেনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিএসসি।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা জানান, এ প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে চীনের প্রাথমিক সম্মতি পাওয়া গেছে। তবে কবে নাগাদ ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এদিকে প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের তোড়জোড় চলছে। চলতি মাসে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য একনেক সভায় উপস্থাপন করা হতে পারে বলে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান।

বর্তমানে অন্য একটি প্রকল্পের আওতায় চীন থেকে ছয়টি জাহাজ কেনার প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৯ হাজার ডিডব্লিউটি ধারণ ক্ষমতার ৩টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং কয়লা পরিবহনে কেনা হচ্ছে তিনটি বাল্ক্ক ক্যারিয়ার। এক হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে চীন সরকার ঋণ দিচ্ছে এক হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা। চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি) এসব জাহাজ তৈরি করছে।

ভারতের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেও সফল হয়নি পাকিস্তানের দুটি যুদ্ধবিমান। ভারতের পাল্টা তাড়া খেয়ে চলে যায় পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান। গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় ভোরের দিকে পাঞ্জাবের খেমখারান সেক্টরে এ ঘটনা ঘটেছে।


এননডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ভারতের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেও সফল হয়নি পাকিস্তানের দুটি যুদ্ধবিমান। ভারতীয় বিমানবাহিনীর সুখোই-এমকেআই ও মিরাজ যুদ্ধবিমান নিায়ে পাল্টা তাড়া করে। আর সেই তাড়া খেয়ে ফিরে যায় পাকিস্তানের দুটি যুদ্ধবিমান।

দুই দেশের সর্বশেষ সংকটের শুরু ১৪ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় দেশটির আধা সামরিক সিআরপিএফের গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জনের বেশি জওয়ান নিহত হয়। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদ এ হামলার দায় স্বীকার করে। এ ঘটনার ১২ দিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে তিনটার দিকে সীমানা পেরিয়ে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে হামলা চালিয়েছিল ভারতের বিমানবাহিনী। ভারতের দাবি, ২১ মিনিটের ওই হামলায় মিরেজ ১০০০ থেকে ২০০০ কেজি ওজনের বোমা জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আঘাত হানে। বিশেষ বোমা ফেলে ধ্বংস করা হয় জইশ-ই-মুহাম্মদ, হিজবুল্লাহ মুজাহিদীন ও লস্কর-ই-তাইয়েবার ঘাঁটি। নয়াদিল্লির দাবি, ওই হামলায় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মুহাম্মদের বড় ঘাঁটি গুঁড়িয়ে গেছে। নিহত হয় ৩০০ জঙ্গি। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্য উত্তেজনা চলছে।

নিজ নিজ জায়গা থেকে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছেন- এমন ৩০ বছরের কম বয়সী সেরা ৩০০ জন তরুণ উদ্ভাবক নিয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফোর্বস। ওই তালিকায় স্থান পেয়েছেন দুই বাংলাদেশি।

তারা হলেন- অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাঠাও’র সহ প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) হুসাইন এম ইলিয়াস এবং কার্টুনিস্ট আবদুল্লাহ আল মোরশেদ।

ভিন্ন ভিন্ন ১০টি ক্যাটাগরিতে (অনূর্ধ্ব-৩০) ৩০ জন করে টানা চতুর্থবারের মতো এ তালিকা প্রকাশ করেছে ফোর্বস। চলতি বছর এশিয়া প্রশান্ত মহাসগারীয় অঞ্চলের ২৩টি দেশের প্রায় কয়েক হাজার তরুণকে নিয়ে জরিপ করে এই ৩০০ জনকে নির্বাচন করে ফোর্বস এশিয়া।

এর মধ্যে ফোর্বসের কনজুমার টেকনোলজি ক্যাটাগরিতে ৩০ জনের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন হুসাইন এম ইলিয়াস এবং মিডিয়া, মার্কেটিং অ্যান্ড অ্যাডভার্টিজিং ক্যাটাগরির ‘থার্টি আন্ডার থার্টি’ তালিকায় জায়গা পেয়েছেন আবদুল্লাহ আল মোরশেদ।

পরে এম ইলিয়াস সম্পর্কে ফোর্বস বলে, হুসাইন ইলিয়াস এবং শিফাত আদনান (অনূর্ধ্ব-৩০) এক হয়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশের প্রথম রাইড শেয়ারিং সেবা পাঠাও। যে প্রতিষ্ঠানটি এখন মোটরবাইক ও কার সেবার পাশাপাশি অন-ডিমান্ড লজিস্টিকস এবং ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে পাঠাও’র সঙ্গে মোটরবাইক এবং কার নিয়ে প্রায় পাঁচ মিলিয়ন রাইডার সংযুক্ত রয়েছেন। যারা বাংলাদেশের পাঁচটি শহর এবং নেপালের কাঠমাণ্ডুজুড়ে রাইড শেয়ারিং সেবা দিচ্ছেন।

প্রকল্পটির বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইন্দোনেশিয়ার গো জেকের উৎসাহে ইলিয়াস চাইছেন পাঠাও যেনো বাংলাদেশের ‘সুপার অ্যাপ’ হয়। পাঠাও এ পর্যন্ত ১২ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার ফান্ড পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান মূল্য ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

আর আবদুল্লাহ আল মোরশেদ সম্পর্কে ফোর্বস বলেছে, ২০১৮ সালের প্রথম দিক থেকে কার্টুনিস্ট মোরশেদ মিশু (আবদুল্লাহ আল মোরশেদ, মোরশেদ মিশু নামেই তাকে সবাই চেনে) বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধের বিষয় নিয়ে কার্টুন তৈরি করতে শুরু করেন। হৃদয়বিদারক নানা ছবি উঠে আসে তার প্রতিভায়। মিশুর আশা ছিল তার কর্মের মাধ্যমে তুলে ধরা এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য যদি না থাকতো, তাহলে কতো সুন্দর হতো পৃথিবীটা।

ফোর্বস যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত একটি ম্যাগাজিন। এটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত ও বিখ্যাত বিভিন্ন রকম গুরুত্বপূর্ণ তালিকা প্রকাশ করে। বিশ্বে শীর্ষ ধনীদের তালিকা এই নামকরা প্রতিষ্ঠানটিই করে থাকে।





তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিদেশি চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপনমুক্ত বা ক্লিন-ফিড হিসেবে চাইতে হবে অথবা ফিল্টার করে সম্প্রচার করতে হবে। এদেশের টেলিভিশন, টিভি সাংবাদিক, অনুষ্ঠান নির্মাতা, শিল্পী কলাকুশলী সবার স্বার্থে এ আইন মানা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সবাই সহযোগিতা করবেন বলে আমার বিশ্বাস।’
মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সরকার কোনো বিদেশি চ্যানেল বন্ধ করেনি। দেশে ডাউনলিংক করে বিদেশি চ্যানেল প্রচারে প্রচলিত আইন প্রয়োগ করছে মাত্র।’

‘ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন-২০০৬ এর ১৯(১৩) উপধারা অনুযায়ী বিদেশি চ্যানেলে কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন দেখানো যায় না’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলো এমনকি ইউরোপের সকল দেশেই একই নিয়ম। আইনটি এতদিন মানা হচ্ছিল না। ফলে এদেশের টিভি চ্যানেলগুলো বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিজ্ঞাপন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, কয়েকবার এ বিষয়ে সর্তকবার্তা প্রচারের পর পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ১ এপ্রিল বিদেশি টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচারের কারণে পরিবেশক (ডিস্ট্রিবিউটর) সংস্থা ন্যাশনওয়াইড মিডিয়া লিমিটেড এবং জাদু ভিশন লিমিটেডকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে তথ্য মন্ত্রণালয়। সেই নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে ১ এপ্রিল থেকে দেশে ভারতের জি নেটওয়ার্কের সব চ্যানেল বাংলাদেশে দেখানো বন্ধ রয়েছে। তবে স্টার, সনি নেটওয়ার্কসহ অন্য বিদেশি চ্যানেলগুলোতে বিজ্ঞাপনসহ সম্প্রচার চলছে।


রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও উত্তরার আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ডে পৃথক অভিযানে ৮ লাখ পিস ইয়াবাসহ মাদক চোরাচালান চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— তুহিন হোসেন (২৫), মো. সবুজ (২৬) ও মো. শাহ্জাহান (৩৫)। এর মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র এএসপি মো. মিজানুর রহমান ভুঁইয়া গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গতকাল মঙ্গলবার ভোর রাত ৬টায় ও দুপুর ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও উত্তরার আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ডে ঝটিকা অভিযান চালায় র্যাব ১-এর একটি দল। র্যাব-১, উত্তরার স্কোয়াড কমান্ডার (সিপিসি-১) এএসপি মো. কামরুজ্জামান গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নৌপথে ইয়াবার একটি বড় চালান ঢাকায় আসছে— এমন তথ্যের ভিত্তিতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালায় র্যাব-১-এর একটি দল। এসময় মাদক চোরাচালান চক্রের ৩ সক্রিয় সদস্য মো. তুহিন হোসেন, মো. সবুজ ও মো. শাহজাহানকে আটক করা হয়। পরে তাদের ৩ জনের কাছ থেকে ৮ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্বার করা হয়েছে। আটককৃতরা মাদক চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য। জব্দকৃত ইয়াবার বাজার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন তিনি।গতকাল বিকালে প্রেসব্রিফিংয়ে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার মুখপাত্র কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বক্তব্য রাখেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, র্যাব-১, উত্তরা গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পারে যে, একটি সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালান চক্র মিয়ানমার থেকে মধ্যরাতে নদী পথে বিপুল ইয়াবা নিয়ে পটুয়াখালী হয়ে ঢাকা আসবে। এ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর রাত ৫টা ৫০ মিনিটের সময় র্যাবের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের দুই সদস্য তুহিন হোসেন (২৫) ও মো. সবুজ (২৬) বরগুনা থেকে ৫ লাখ ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ সপ্তবর্ণা-১ নামক একটি লঞ্চে সদরঘাট আসে। র্যাব অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।সংবাদ সম্মেলনে মুফতি মাহমুদ খান জানান, তাদের তথ্যের ভিত্তিতে ওই চক্রের অপর সদস্য মো. শাহ্জাহান বিপুল ইয়াবাসহ সড়কযোগে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে র্যাবের একটি দল উত্তরার আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আনুমানিক ৩ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী মো. শাহজাহাকে আটক করে। গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সংঘবদ্ধ এই চক্রটি গভীর সাগর থেকে ইয়াবা ট্রলারের মাধ্যমে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় নিয়ে আসে। সেখান থেকে তারা সুবিধামত নদী পথে এবং স্থল পথে পাচার করতো এবং নিয়মিত তাদের রুট পরিবর্তন করতো। এ চালানটিও সেখান থেকে দুই ভাগে ঢাকায় পাচারের পরিকল্পনা করে। দুইভাগে পাচারের উদ্দেশ্য একভাগ ধরা পড়লেও যেন অন্য ভাগ ধরা না পড়ে। তাদের ৮-১০ জনের একটি চক্র ওই চালানের সাথে জড়িত। তারা প্রায় দেড় বছর যাবৎ ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো ঢাকায় একটি বাসায় প্রেরণ করার কথা ছিল। ওই বাসা থেকেই নিজস্ব বাহকের মাধ্যমে বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতার নিকট সরবরাহ করত। এছাড়া আরও জানা যায়, প্রতি ৬-৭ মাস পর পর প্রতি চালানে ৫-৭ লাখ ইয়াবা ঢাকার উদ্দেশ্যে আনা হতো। এভাবেই সংঘবদ্ধ চক্রটি মিয়ানমার থেকে উপকূল হয়ে নদী পথে অথবা সড়ক পথে ইয়াবা সরাসরি ঢাকায় সরবরাহ করত। র্যাব জানায়, ইয়াবা সড়ক পথে মিয়ানমার থেকে কক্সবাজার হয়ে ঢাকায় পাচার করতে হলে অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়। তাই মাদক পাচারকারী চক্রটি তাদের রুট পরিবর্তন করে সাগর পথে কক্সবাজার থেকে পটুয়াখালী ও চাঁদপুর হয়ে ঢাকায় নিয়ে আসতো। ইয়াবা পরিবহন ব্যবসার সাথে স্থানীয় ট্রলার মালিকদের একটি অংশ জড়িত। সাম্প্রতিক চট্টগ্রাম-টেকনাফ রুটে র্যাবের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হওয়ায় চক্রগুলো বিকল্প রুট হিসেবে সাগর ও আভ্যন্তরীণ নদী পথ বেছে নিয়েছে। এবিষয়ে র্যাবের পক্ষ থেকে উত্তরাসহ পৃথক দুটি থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব। জানা যায়, গত ৩ মে থেকে দেশব্যাপী বিভিন্ন মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ২০ হাজার (১৯,৩৭৯ জন) মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৭৫ লক্ষাধিক (৭৫,৭৯,২৮৫ পিস) ইয়াবা ও অন্যান্য বিপুল মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। যার মূল্য প্রায় চারশ পঞ্চাশ কোটি (৪৫০,২১,০২,৩৯১.০০) টাকা। এছাড়াও র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের ২৩৭৫টি অভিযানে ৮৫৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং প্রায় ১২ কোটি টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।


গত চারশ বছর ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের পূর্বাংশে দুটি ভূ-গাঠনিক প্লেটে শক্তি সঞ্চয়ের ফলে বড় ধরনের ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে বর্তমান বাংলাদেশ- এমনটাই শঙ্কা করছেন গবেষকরা। গবেষকদের মতে, ৮.২ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে এবং এতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যেতে পারে দেশের রাজধানীসহ সিলেট ও চট্টগ্রাম শহর। নেচার জিও সায়েন্স জার্নালে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের একদল গবেষক সম্প্রতি এমনই আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই বিজ্ঞান সাময়িকীতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ভূ-গাঠনিক প্লেটে শক্তি সঞ্চয়ের ফলাফল হলো ভূমিকম্প। ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা- এই তিনটি গতিশীল প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশ ভয়ঙ্করভাবে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। গবেষক দলের সদস্য অধ্যাপক হুয়ায়ূন আখতার বলেন, পূর্ব-পশ্চিমে আড়াইশ কিলোমিটার ও উত্তর-দক্ষিণে প্রচুর পরিমাণে শক্তি সঞ্চিত রয়েছে। আমাদের মডেলে আমরা দেখেছি ৮.২ থেকে ৯ মাত্রা ভূমিকম্প হওয়ার মতো শক্তি সঞ্চিত রয়েছে সেখানে। ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী প্লেট ও সাব-প্লেট দিয়ে গঠিত। এ রকম দুটি প্লেটের মাঝখানে যে ফাঁক থাকে তাকে বলা হয় ফল্টলাইন। প্লেটগুলো গতিশীল। দুটি চলন্ত প্লেটের ফল্টলাইনে পরস্পর সংঘর্ষ হলে অথবা হঠাৎ ফল্টলাইনে শূন্য অবস্থার সৃষ্টি হলেই ভূমিকম্প শুরু হয়। বাংলাদেশ অবস্থান করছে ভারতীয়, ইউরেশীয় ও মিয়ানমারের টেকটনিক প্লেটের মাঝামাঝিতে। বুয়েটের গবেষকদের ভূমিকম্প ঝুঁকির মানচিত্রে দেখা যায়, বাংলাদেশের ৪৩ শতাংশ এলাকা ভূমিকম্পের উচ্চমাত্রার ঝুঁকিতে (জোন-১), ৪১ শতাংশ এলাকা মধ্যম (জোন-২) ও ১৬ শতাংশ এলাকা নিম্ন ঝুঁকিতে (জোন-৩) রয়েছে।জোন-১-এ রয়েছে পঞ্চগড়, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সম্পূর্ণ অংশ এবং ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারের অংশ বিশেষ। রাজশাহী, নাটোর, মাগুরা, মেহেরপুর, কুমিল্লা, ফেনী ও ঢাকা রয়েছে জোন-২-এর অধীনে। জোন-৩-এর মধ্যে রয়েছে বরিশাল, পটুয়াখালী এবং সব দ্বীপ ও চর। পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে ভূমিকম্প হলে এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। এমনকি ভারতে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর বাংলাদেশেও কিছুদিন পর ভূমিকম্প হয়েছে। নেচার জিও সায়েন্স জার্নালে বলা হয়, প্রায় ১৬ কোটির বেশি মানুষের এ দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এবং তা বাড়ছে দ্রুততার সঙ্গে। দেশটি বিশ্বের বৃহত্তম নদী অববাহিকা এবং তা সমুদ্র উচ্চতার কাছাকাছি। এর ফলে বাংলাদেশ সুনামি হুমকিতেও রয়েছে। ভূমিকম্প হলে নদীগুলোর তীর লাফিয়ে লাফিয়ে গতিপথের পরিবর্তন ঘটাবে। বড় বড় ব্রিজ ও বহুতল ভবনগুলো ধসে পড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, দেশের বাইরে কাছাকাছি ও দেশের ভেতরে ভূমিকম্পের উৎস থাকায় যে কোনো সময় বাংলাদেশে ভূমিকম্প হতে পারে। আমাদের ঢাকা একটি অপরিকল্পিত ও জনবহুল নগরী। বড় ধরনের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ঢাকার অবস্থান ভূমিকম্পের উৎস থেকে ৫০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে হলে ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক হতে পারে।এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ প্রতিরোধে দেশীয় বিশেষজ্ঞরা সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে সরকারকে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়ে নির্মাণ বিধি ও নিরাপত্তাজনিত অন্যান্য বিষয়গুলো অবহেলা করে নির্মিত সুউচ্চ ভবন ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানান। এ ঝুঁকিতে রাজধানীতে প্রাণহানির শঙ্কায় রয়েছে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বিশ্বের অন্যতম জনবহুল এই রাজধানী শহরে ভয়াবহ ভুমিকম্পের আশঙ্কা মোকাবিলায় আগে থেকেই সরকারকে এ নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন কমিটি করার। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী অপরিকল্পিত নগরায়ন, নির্মাণবিধি না মানায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের আশঙ্কা করে সম্প্রতি বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন, ঢাকার অধিকাংশ ভবন নির্মাণ বিধি ও ১৯৯৬ সালের ইমারত নির্মাণ আইন অমান্য করে তৈরি হয়েছে। যার ফলে গোটা রাজধানী রয়েছে ভূমিকম্প ঝুঁকিতে। আগে থেকেই এর পদক্ষেপ গ্রহণে সচেষ্ট না হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, রাজধানীতে এতগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে যে, শক্তিশালী কোনো ভূমিকম্পের আঘাতে এক লাখ থেকে দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এরপরও ভূমিকম্পের প্রস্তুতিতে দেশে তেমন অগ্রগতি হয়নি। রাজধানীর ৮০ শতাংশ ভবন রাজউকের অনুমোদন ছাড়া হয়েছে উল্লেখ করে নগরবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, অন্য ভবনগুলোর মধ্যে ৬০ শতাংশ ভবন নকশার বরখেলাপ ও নিয়ম লঙ্ঘন করে তৈরি হয়েছে। ভূমিকম্প প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়াই অধিকাংশ ভবন তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তাই পুরো ঢাকা শহর ভূমিকম্পের তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে। বেশিরভাগ ভবন ও স্থাপনাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি ছাড়াই নির্মিত হয়েছে।

MKRdezign

{facebook#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {twitter#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {google-plus#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {pinterest#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {youtube#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {instagram#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL}

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget