August 2017


যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেখা করতে এলে একথা বলেন তিনি।

পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাক্ষাতের বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান।

প্রেস সচিব বলেন, “রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধে মিয়ানমারকে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মানবিক কারণে আমরা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু এটা বড় সমস্যা।”

ইহসানুল করিম বলেন, “এই সঙ্কট নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে কিনা- সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী তা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে’।”
গত ২৪ অগাস্ট রাতে মিয়ানমারের রাখাইনে একসঙ্গে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ওই রাতের পর থেকে এ পর্যন্ত শতাধিক নিহতের খবর পাওয়া গেছে; যাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন।
আরও সহিংসতার আশঙ্কায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা নাফ নদী ও স্থল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে। সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ অংশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষীদের গুলি করার ঘটনাও ঘটেছে।
প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে কয়েক দশকে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। দীর্ঘদিন সেনা শাসিত মিয়ানমারের বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিক মানতে নারাজ।

গত বছর রাখাইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর ফের রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ পানে ছুটে। তখনও সীমান্ত বন্ধ রাখলেও মানবিক কারণে অর্ধ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে ঢুকতে দেওয়া হয়।
প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করেছেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে কোনো দেশেই সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রশংসা করে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তারা চান সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করতে।

যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরত দিতে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

আলোচনায় দেশের গণমাধ্যমের প্রসঙ্গও এসেছে বলে জানান ইহসানুল করিম।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশে গণমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে। আগে একটা টেলিভিশন চ্যানেল থাকলেও এখন দেশে ৪৪টি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদনে এবং ২৪টি চ্যানেল সম্প্রচারে রয়েছে। পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে প্রায় ৭৫০।

“প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিডিয়া সরকারের সমালোচনাও করছে। এখানে কোনো হস্তক্ষেপ নেই।”

পাকিস্তানে গতকাল রোববার আত্মঘাতী বোমা হামলার পর ফেসবুকের অনেক ব্যবহারকারী একটি নোটিফিকেশন পেয়েছিলেন। এতে অনেকেই চমকে উঠেছিলেন। কারণ, কী ঘটনা ঘটল যে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত নোটিফিকেশন এল। দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন অনেকেই। মোবাইলে খুদে বার্তা পেয়েও অনেকে বিচলিত হয়ে পড়েন। কারণ, নোটিফিকেশনে লেখা ছিল, ‘আপনি কি বিস্ফোরণে আক্রান্ত হয়েছেন?’


ইস্টার সানডের দিনে পাকিস্তানের লাহোরের গুলশান-ই-ইকবাল পার্কে বোমা হামলায় ৭০ জনের অধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সহযোগী সংগঠন জামাত-উল-আহরার ওই হামলার চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। পাকিস্তানের লাহোরের ওই পার্কে বোমা হামলার সময় আশপাশের লোকজন নিরাপদ আছেন কি না, বন্ধু তালিকার সদস্যদের এটা জানাতেই নোটিফিকেশনটি দেওয়া হয়েছিল। তবে লাহোরের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা ওই নোটিফিকেশন পেয়েছেন।
রয়টার্স ও এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ডিজাস্টার রেসপন্স পাতায় এক লেখায় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ওই নোটিফিকেশনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। ফেসবুক বলেছে, ‘এই ধরনের ভুল আমাদের অনিচ্ছাকৃত। আমরা দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করেছি। যাঁরা ভুল করে এমন নোটিফিকেশন পেয়েছেন, আমরা সেই সব ব্যবহারকারীর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।’২০১৪ সালের অক্টোবরে ফেসবুক ‘সেফটি চেক’ সুবিধা চালু করে। দুর্ঘটনাকবলিত এলাকার ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এই সুবিধার মাধ্যমে বন্ধু তালিকার সদস্যদের জানাতে পারেন, তিনি নিরাপদ আছেন কি না।
স্বয়ংক্রিয় ‘সেফটি চেক’ সুবিধা থেকে অনেক সময়ই ভুল বার্তা যায়। এ ধরনের বার্তায় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। আবার সব দুর্ঘটনায় ‘সেফটি চেক’ চালু না করাতেও সমালোচনার মুখে পড়ে ফেসবুক। যেমন, গত বছরের নভেম্বরে ফ্রান্সের প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলায় সুবিধাটি চালু করা হলেও লেবাননের বৈরুত বোমা হামলা হলে তা চালু করা হয়নি। প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ পর্যন্ত এ জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন।

[ঢাকা, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৬] অ্যান্ড্রয়েড ও ফিচার ফোন ব্যবহারকারীদের আনলিমিটেড প্রিমিয়াম গেমস ও অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা দিতে অপেরার সাথে যৌথভাবে জিপি গেমবক্স নিয়ে এলো গ্রামীণফোন।


গেমবক্স ব্যবহারকালে গ্রাহকরা প্রিমিয়াম সব গেমসের ফুল ভার্সন ডাউনলোড করতে পারবেন। এক্ষেত্রে, তাদের ইন-অ্যাপ কেনা এবং বিজ্ঞাপন নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হবে না। সপ্তাহে মাত্র ১০ টাকা সাবস্ক্রিপশন ফি’র বিনিময়ে জিপি গেমবক্স ব্যবহারকারীরা আনলিমিটেড গেম খেলার অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন। এছাড়াও, সাবস্ক্রিপশন ফি দেয়ার আগেই গ্রাহকরা উপভোগ করতে পারবেন বিনামূল্যে সাত (৭) দিনের ট্রায়াল সুবিধা।
জিপি গেমবক্সে জনপ্রিয় ও নতুন সব গেম নিশ্চিত করতে অপেরা বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে ১৫০টির বেশি গেম ডেভলপারের সাথে যৌথ অংশীদারিত্বে কাজ করছে।
এছাড়াও, জিপি গেমবক্সে থাকছে ‘সোশ্যাল অ্যাপ ডিসকভারি’ ফিচার। যার মাধ্যমে গ্রাহকরা, তাদের বন্ধুরা জনপ্রিয় ও সেরা যেসব সব গেমস ও অ্যাপ ব্যবহার করছে সেগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং তাদের বন্ধুদের সুপারিশকৃত সব গেমস ও অ্যাপ তাদের ফোনে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
হাজারের বেশি এক্সক্লুসিভ গেমস ও অ্যাপস ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নিতে গ্রাহকদের স্মার্টফোন কিংবা ফিচার ফোনে http://appsclub.grameenphone.com - এই ওয়েবসাইট থেকে গেমবক্স অ্যাপ অথবা অপেরা মিনি ব্রাউজার ডাউনলোড করে নিতে হবে।
বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য যোগাযোগ করুন: মো: হাসান, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার- পিআর, ফোন: ০১৭১১০৮২৪৬৯
গ্রামীণফোন লি:
টেলিনর গ্রুপের অঙ্গসংগঠন গ্রামীণফোন ৫৬ মিলিয়ন এরও অধিক গ্রাহক নিয়ে বাংলাদেশের অগ্রণী টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করার পর দেশব্যাপী সর্ববৃহৎ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে গ্রামীণফোন যার মাধ্যমে দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ সেবা গ্রহণ করতে পারে। ব্র্যান্ড প্রতিজ্ঞা “চলো বহুদূর”-এর আওতায় গ্রামীণফোন, গ্রাহকদের জন্য সর্বোত্তম মোবাইল ডাটা, ভয়েস সেবা এবং সবার জন্য ইন্টারনেট প্রদানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। গ্রামীণফোন ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত। Web: www.grameenphone.com; Facebook: www.facebook.com/grameenphone



ই-প্রেসক্রিপশান একটি সময়োপযোগী ডিজিটাল সল্যুশন যা ডিজিটালাইজ প্রেসক্রিপশন সমাধানে চিকিৎসকদের সহযোগিতা করছে। এটি হাইকোর্টের সার্কুলারের সাথে ড্যাফোডিল সফটওয়্যার লিমিটেড (ডি এস এল) এর একটি যুগপযোগী উদ্যোগ । তরুণ থেকে অভিজ্ঞ সকল ডাক্তার ব্যবহার করবেন ই-প্রেসক্রিপশান সফটওয়্যার। গতকাল পেসমেকার মেডিক্যাল একাডেমির ৪র্থ বর্ষ পূতি উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় একথা বলেন ড্যাফোডিল সফটওয়্যার লিমিটেডের প্রধান মোঃ রাশেদ করিম। তিনি এই আলোচনা সভায় ১৫০ জন তরুন ডাক্তার এর উপস্থিতিতে ই-প্রেসক্রিপশান এর সকল বিষয় তুলে ধরেন। ডাক্তার মহোদয়রা তাৎক্ষনিক ভাবে এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করার জন্য বিনামূল্যে ই-মেইল ও মোবাইল নাম্বার দিয়ে নিবন্ধন করেন। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন পেসমেকারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডঃ মোঃ সালেকুর রহমান শুভ, ডঃ সিরাজুল ইসলাম, ড্যাফোডিল সফটওয়্যার লিমিটেডের চ্যানেল ও অংশীদার উন্নয়ন এর প্রধান মোঃ রফিকুল আলম রুবেল, প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোঃ লিয়াকত আলী, ব্যবসা উন্নয়ন ব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। উল্লেখ্য বাংলাদেশ হাইকোর্ট ডাক্তাদের ব্লক অক্ষরে বা সফটওয়্যার সিস্টেম প্রেসক্রিপশন প্রিন্ট আউট দিতে নির্দেশ দিযেছেন। এর সমাধানের জন্য তৈরি হয়েছে ই-প্রেসক্রিপশন যা এক জায়গায় বসে সবচেয়ে সহজ পদ্ধতিতে প্রেসক্রিপশন ও পরামর্শ প্রদান করবেঃ# প্রেসক্রিপশন দ্রুত মুদ্রণ

# ই-মেইল/ভাইভার/ইমো/ফেইসবুক/মেসেঞ্জার/প্রেসক্রিপশন স্থানান্তর
# রোগীদের প্রোফাইল
# চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন প্রোফাইল
# রোগীদের মেডিকেল ইতিহাস
# চিকিৎসা পরামর্শ এবং অনুসরণ
# প্রেসক্রিপশন দ্রুত ইমেজ
# এস এম এস নোটিফিকেশণ
# নাম বা আইডি দ্বারা অনুসন্ধান
# অনলাইন এপয়েন্টমেন্ট
# বিল পরিশোধ পদ্ধতি
# ডাটাবেস এবং ডিজিটাইজড সিস্টেম
বিস্তারিত তথ্যের জন্য নিচের নাম্বার গুলোতে যোগাযোগ করা যাবেঃ
০১৮১১৪৫৮৮০৯, ০১৮১১৪৫৮৮১২, ০১৮১১৪৫৮৮২৫, ০১৭১৩৪৯৩০২৬।

সংগ্রহঃ http://www.dailyictnews.com/8180

খালি পদের সংখ্যা               ০১
চাকরির বিবরণ / দায়িত্বসমূহ
সময়সূচী উপর ভিত্তি করে পরিক্রমানুসারে সব ফ্রেন্ডশীপ হেলথ কেয়ার ফ্যাসিলিটিসে ফিজিওথেরাপী সেশন পরিচালনা করা।
বিশেষ ক্যাম্পের সময় মেডিকেল টিম সহায়তা করা।
ওয়ার্ডে পোস্ট অপারেটিভ রোগীদের পরিচর্যা করার সময় অস্ত্রোপচারের ডাক্তারদের সহায়তা করা।
নিয়মিত ভিত্তিতে (প্যারামেডিক, হেলথ এডুকেটর) অন্য মেডিকেল কর্মচারীদের জন্য ফিজিওথেরাপি বিষয়ে প্রশিক্ষণ আয়োজন করতে হবে।
মাধ্যমিক স্বাস্থ্য ক্যাম্পে রোগীর ব্যবস্থাপনা করা।
ফিজিওথেরাপী ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করা।
মাধ্যমিক স্বাস্থ্য ক্যাম্পের সময় পরিক্রমানুসারে দায়িত্ব পালন করা।
মাসিক কাজের কার্যক্রম প্রতিবেদন এবং সেগুলো ফ্রেন্ডশীপ হেলথ কেয়ার ফ্যাসিলিটিসের ই-চার্জকে পাঠানো।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত কোনও কাজ করা।
চাকরির ধরন
ফুল টাইম
শিক্ষাগত যোগ্যতা
ফিজিওথেরাপীতে স্নাতক /ডিপ্লোমা।
অভিজ্ঞতা
কমপক্ষে ১ বছর
অন্যান্য যোগ্যতা
বাংলা ও ইংরেজীতে দক্ষ হতে হবে।
ঘনঘন ভ্রমণের ক্ষমতা থাকা আবশ্যক।
রোগীর সাথে ভাল রীতি এবং আচরণ বজায় রাখতে হবে।
চাপের মধ্যে কাজ করার ক্ষমতা থাকতে হবে।
কর্মস্হল
কক্সবাজার, কুড়িগ্রাম, খুলনা বিভাগ, গাইবান্ধা, জামালপুর, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, বগুড়া, বাগেরহাট, সিরাজগঞ্জ
বেতন সীমা
আলোচনা সাপেক্ষ
অন্যান্য সুবিধাদি
কোম্পানীর নীতিমালা অনুযায়ী।
উত্স
বিডিজবস.কম অনলাইন জব পোস্টিং



অথবা
আপনার জীবনবৃত্তান্ত যেখানে পাঠাবেন hr@friendship-bd.org অথবা মাই বিডিজবসের মাধ্যমে পাঠাতে এখানে ক্লিক করুন
আবেদনের শেষ তারিখ : আগস্ট ১২, ২০১৭

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে আজ। চলবে ২৯ আগস্ট রাত ১০টা পর্যন্ত।
সোমবার দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনস্থ কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে ভর্তি প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

ভর্তিচ্ছুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। এ বছর মোট আসন সংখ্যা সাত হাজার ৮৩টি। এ বছর নতুন বিভাগ হিসেবে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবে জাপানিজ স্টাডিজ ও প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন বিভাগে।

এবার ক-ইউনিটে আসন সংখ্যা এক হাজার ৭৬৫টি, খ-ইউনিটে দুই হাজার ৩৬৩টি, গ-ইউনিটে এক হাজার ২৫০টি, ঘ-ইউনিটে এক হাজার ৫৪০টি এবং চ-ইউনিটে ১৩৫টি আসন রয়েছে।

বরাবরের মতো এবারও ব্যাংক ও অনলাইন সার্ভিসের চার্জসহ ভর্তি পরীক্ষার ফি ৩৫০ (তিনশত পঞ্চাশ) টাকা রাখা হয়েছে। টাকা জমা দেয়ার শেষ তারিখ ৩০ আগস্ট।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) নাসরিন আহমেদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, অনলাইন ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক।

বাগেরহাটে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যাক্তের দায়ে রিপন শেখ (২৪) নামে এক যুবককে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার বিকেলে বাগেরহাট শহরের নাগের বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী হাকিম নাজিম উদ্দীন ভ্রাম্যমাণ এ দণ্ডাদেশ দেন।

তিনি জানান, সিটিজেনস ভয়েস অফ বাগেরহাট নামে জেলা প্রশাসনের সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে এক ব্যক্তি জানায়, শহরের নাগেরবাজারের রেলওয়ে কলোনিতে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ের প্রস্ততি চলছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে গিয়ে জানতে পারি দরিদ্র পরিবারটি অসচেতনায় ও মেয়ের নিরাপত্তার অভাবে আগামী ৭ই এপ্রিল শিশুটির বিয়ের দেয়ার প্রস্ততি নিচ্ছিল। মেয়েটির বাড়িতে গেলে তার পরিবার জানান, তাদের সন্তান স্কুলে যাওয়া আসার পথে স্থানীয় এক যুবক শিশুটিকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। তাই মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবে তারা বিয়ের প্রস্ততি নিচ্ছিল।

তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে নাগেরবাজার এলাকার আবু শেখের ছেলে রিপন শেখকে আটক করা হয়। পরে উত্ত্যক্তের দায়ে আটক রিপনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। শিশুটির পরিবার তাকে বিয়ে না দেয়ার বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে অঙ্গীকার করেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবিতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় মানববন্ধন করেছে উপজেলা ছাত্রলীগ।

রোববার (৬ই আগস্ট) উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে সকালের দিকে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানবন্ধনে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান হাজরা, লক্ষ্মী সরকার, জেলা পরিষদ সদস্য নজরুল ইসলাম হাজরা মন্নু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক নারায়ন চন্দ্র দাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাবুল হাজরা, বর্তমান সভাপতি মেহেদী হাসান মুন, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, কোটালীপাড়া শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারী কলেজের সভাপতি স্বপন তালুকদার অংশ নেয়।

তারা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বি সি এস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপকদের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সভা আজ মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) সকাল দশটার দিকে শুরু হওয়ার কথা। পদাধিকার বলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো: সোহরাব হোসাইন বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করবেন। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন মন্ত্রণালয়ের কলেজ শাখার অতিরিক্ত সচিব ড. মোল্লা জালাল উদ্দিন।কমিটিকে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহায়তা করবেন শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান।

এদিকে ১০ শতাংশ কোটায় নিয়োগ পাওয়া বাংলা বিভাগের একজন শিক্ষক পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়ার আশংকা থেকে আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছিলেন। গতকাল সোমবার শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন আইন কর্মকর্তা প্রশাসনিক ্ট্রাইবুনালকে এই মর্মে অবগত করেছেন যে,  ওই রিটাকরী পদোন্নতি বঞ্চিত হবেন না। বাংলা বিভাগের শূন্য পদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে সোমবার রাতে। ১৭ তারিখ পর্যন্ত পদোন্নতি কমিটির সভা স্থগিতাদেশ দেয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিলো।

অপর এক সূত্রমতে সর্বোচ্চ ২৭০ জন পদোন্নতি পেতে পারেন। পদোন্নতির সঙ্গে সঙ্গে পদায়ন দেয়া হতে পারে বলে বলাবলি হচ্ছে।

পদোন্নতি উপলক্ষ্যে শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক তৈরি করা একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দৈনিকশিক্ষার পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।

প্রিয় পাঠক,

‘দৈনিক শিক্ষা’ ও এর কাছাকাছি শিরোনাম ব্যাবহার করে ফেসবুকে কয়েকটি ভুয়া পেজ ও ভু্ইফোঁড় অনলাইন খোলা হয়েছে এবং দৈনিক শিক্ষাডটকমের অনুমতি ছাড়াই নিয়মিত খবর পোস্ট করছে প্রতারকচক্র।
দৈনিক শিক্ষার আসল ফেসবুক পেজে লাইকের সংখ্যা এক লাখ ৬৪ হাজারেরও বেশি।
শিক্ষকদের কাছে সস্তা জনপ্রিয়তার আশায় কিছু অসত্য ও বানোয়াট খবর ওইসব ভুয়া পেজে পোস্ট করা হচ্ছে যা আদৌ দৈনিক শিক্ষাডটকমের খবর নয়। আবার দৈনিক শিক্ষায় গত বছর প্রকাশিত কয়েকটি খবর এবছর ওইসব ভুয়া ফেসবুক পেজে পোস্টিং দেয়া হচ্ছে।  যেমন ৮ মাসের বকেয়া, নিবন্ধন সনদ, ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ইত্যাদি। এতে পাঠকমহলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি  হচ্ছে। নীচে এরকম কয়েকটি ভুয়া পেজের তালিকা দেওয়া হলোঃ
Dainikshiksha online
শিক্ষা বিষয়ক দেশের একমাত্র অনলাইন জাতীয় পত্রিকা ‘দৈনিক শিক্ষাডটকম’ পরিবারের পক্ষ থেকে সম্মানিত পাঠকদের অনুরোধ করছি উপরোক্ত ভুয়া ফেসবুক পেজ থেকে সতর্ক থাকুন এবং Reportঅপশনে গিয়ে অবশ্যই পেজগুলোর নামে রিপোর্ট করুন, তাদের ফেসবুক পেজে কমেন্ট লিখে খবরটি সবাইকে জানিয়ে দিন। ভুলেও ওইসব ভুয়া পেজে লাইক দিয়ে প্রতারকদের ফাঁদে পা দেবেন না। ভুয়া পেজ কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তাদের নাম পরিবর্তন করেছে এবং অনেকের কাছেই ফেসবুকে নোটিফিকেশন পাঠিয়েছে লিংক পরিবর্তনের। দৈনিকশিক্ষার ট্রেডমার্ক করা লোগো ব্যবহার করে দেখতে দৈনিকশিক্ষার মতো  কয়েকটি লোগো তৈরি করেছে তারা।
প্রিয় পাঠক, পাশাপাশি শিক্ষা বিষয়ক দেশের একমাত্র জাতীয় পত্রিকা দৈনিক শিক্ষার আসল ফেসবুক পেজটি চিনে রাখুন এবং আমাদের প্রতিটি খবর আপনার ফেসবুক হোমপেজে দেখতে এখুনি আমাদের আসল পেজে লাইক দিন।  পথ চলায় আমরা পাশে চাই সকল পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের।

বার্তা সম্পাদক

 দৈনিক শিক্ষার আসল ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/dainikshiksha

বড় নামডাক না থাকলে এ দেশে অনেক কৃতী মানুষের জন্ম বা মৃত্যুতিথি অনেক সময় অগোচরে আসে, আর অগোচরেই চলে যায়। তাঁদের স্মরণ করার সময় হয়ে ওঠে না যে রাষ্ট্র ও সমাজের; এমন সময় এ বছরও চলে যাচ্ছে একজন শহীদ বুদ্ধিজীবীর মৃত্যুদিবস; যিনি দেশের জন্য জীবন দিলেও এখনো জায়গা পাননি জন্মভূমিতে, পড়ে রয়েছেন দেশের বাইরে! আর তাঁকে স্মরণ-শ্রদ্ধা তো দূরের কথা, তাঁর নিজ জেলায় অধিকাংশ মানুষই জানে না দেশের জন্য তাঁর আত্মত্যাগের কথা! তাদের কাছেই অচিন তিনি! 
২. শহীদ এই বুদ্ধিজীবীর নাম আবদুল ওয়াহাব তালুকদার। তিনি ছিলেন কুড়িগ্রাম কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষক। একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলনের শেষ দিকে তিনি কুড়িগ্রাম শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়ি ভূরুঙ্গামারীতে চলে যান। ২৫ মার্চের কিছুদিন পর তিনি ভারতে গিয়ে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। পরে ৬ নম্বর সেক্টরের অধীন বামনহাট যুব শিবিবের ক্যাম্প ইনচার্জ নিযুক্ত হন। ৭ আগস্ট সকালে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন বগনী রেলসেতুতে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দলকে দেখতে এসেছিলেন তিনি। এ সময় তাঁরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে আক্রান্ত হন। তিনি গুলিতে আহত হন। সেখানে রেললাইন ছিল জঙ্গলে পরিপূর্ণ। তিনি দৌড়ে জঙ্গলে আত্মগোপন করলে সেনারা জঙ্গল থেকে তাঁকে খুঁজে বের করে। সেখানেই তাকে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়। সে সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শক্ত আক্রমণে তাঁকে কোনোক্রমেই বাংলাদেশের মাটিতে সমাহিত করা সম্ভব না হওয়ায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাছে ভারতের কালামাটি গ্রামে বগনি নদীর তীরে তাঁকে সমাহিত করা হয়। সেখানেই অযত্ন-অবহেলায় নিভৃতে শুয়ে আছেন তিনি। 

৩.  আবদুল ওয়াহাব তালুকদার যে দেশের জন্য প্রাণ দিয়ে নিভৃতে দেশের বাইরে শুয়ে আছেন, সে দেশও ভুলে গেছে তাঁকে। যে কুড়িগ্রাম কলেজের (বর্তমানে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ) শিক্ষার্থীদের তিনি প্রিয় শিক্ষক ছিলেন, সেই কলেজের ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে কতজন তাঁর সম্পর্কে জানেন সেটাও এখন গবেষণার বিষয়। কলেজে তাঁর নামে একটি ছাত্রাবাসের নামকরণ করা  হলেও শিক্ষার্থীদের অনেকেই জানে না কে সেই আবদুল ওয়াহাব তালুকদার? তাঁর অবদানই বা কী। তাঁর মৃত্যুদিবসে কলেজে আগে একটি স্মরণসভা হলেও এখন আয়োজন করার যেন কেউ নেই! আর ১৯৯৭ সালে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে তাঁর নামে একটি স্মারক ডাকটিকেট উন্মোচন করে নিজের দায়িত্ব শেষ করেছে সরকার!

৪.  দেশ স্বাধীনের ৪৬ বছর পার হলো। আর কয়েক বছর পর আমরা উদযাপন করব স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এমন মাহেন্দ্রক্ষণে যদি একজন শহীদ বুদ্ধিজীবীকে আটকে পড়ে থাকতে হবে সীমান্তের ওপারে অযত্ন-অবহেলায়, তাহলে কেমন হবে আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির উৎসব-আনন্দ? মুক্তিযুদ্ধের সময় পরাধীন দেশের মাটি তিনি পাননি বলে আমরা কি তাঁর অন্তঃআত্মাকে স্বাধীনতার সোঁদা মাটির গন্ধে একটু নিশ্বাস নিতেও দিব না? এ নিয়ে শহীদজায়া মেশেরুন নাহারের আক্ষেপ, ‘২০০৭ সালে সরকার হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ শেষে ফিরিয়ে আনলে তাঁরাও আবেদন করেন। কিন্তু এ নিয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি সরকার। মুক্তিযুদ্ধের গবেষক অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল সাজ্জাদ জহির অনেক চেষ্টা করেছেন। বাকিটা সরকারের স্বদিচ্ছার ওপর। সরকার আন্তরিক হলেই তাঁর দেহাবশেষ দেশে আনা সম্ভব।’ একজন শহীদ বুদ্ধিজীবীর দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে এনে তাঁকে সম্মানে সমাধিস্থ করতে খুব কি বেশি দাবি করেছে পরিবার?

৫.  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতায় বিনু স্বপ্নে দেখেছিল কলকাতা শহর নড়তে নড়তে চলছে এবং আজগুবি ওলটপালট সব কাণ্ড ঘটছে, তবে শেষ পর্যন্ত বিনুর ঘুম ভাঙে স্তস্থির সঙ্গে, না কলকাতা আছে কলকাতাতেই? কিন্তু আমাদের শহীদরা যে স্বপ্ন নিয়ে জীবন দিয়েছিলেন সেই বাংলাদেশ কি আছে বাংলাদেশে? থাকলে কি আবদুল ওয়াহাব তালুকদারের মতো শহীদের ছাড়াই? তাঁদের সীমান্তের ওপারে রেখেই? 

সমাজ, রাষ্ট্র ও সরকারের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি!

লেখক : সাংবাদিক, নিউজ টোয়েন্টিফোর টেলিভিশন, ঢাকা। 

স্কেচ : শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মারক ডাকটিকেট ( ষষ্ঠ পর্যায়) প্রকাশ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা (১৯৯৭ সাল)। 

প্রথম যেদিন মিনুকে দেখতে আসল, সেদিন মিনুর সে কী আনন্দ! লাজুক লাজুক খুশিতে সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখল। লজ্জা গোপন করতে সবার সাথে ধমকে ধমকে কথা বলতে লাগলো। পাত্রের নাম জাকির হোসেন। মিনু বলল, এ্যা, এটা একটা নাম হল? এ তো ঠেলাগাড়িওয়ালাদের নাম। মিনুর ছোট বোন অনু বলল, এই আপু বিয়ের পর তোর জাকির হোসেনকে কিন্তু আমি ফকির হোসেন নামে ডাকব। মিনু খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে। মিনুর ভাল লাগে। কল্পনায় রাজপুত্র জাকির হোসেনের ছবি আঁকে। সুশ্রী, সুঠাম, বলিষ্ঠ যুবক- পঙ্খিরাজ ঘোড়া নিয়ে তার দোরে অপেক্ষায় থাকবে রাজকন্যাকে উড়িয়ে নেওয়ার জন্য। 
ছেলের মা মিনুকে উঠালো, বসালো, হাঁটালো, কতো যে কী শুনালো, বলালো, বুঝালো! 
কোন এক ফাঁকে মিনু জাকির হোসেনের দিকে আড় চোখে তাকালো। মিনুর বুক ধ্বক করে উঠলো। কল্পনার সাথে এতো অমিল! তাতে কী। তবুও সে যে তার রাজপুত্র।
জাকির হোসেনের মেয়ে পছন্দ হল। মিনুর প্রানে আনন্দের বন্যা বয়ে গেলো। সে রাতে সে সত্যি সত্যি স্বপ্নে দেখে ফেলল, জাকির হোসেন পঙ্কিরাজ ঘোড়া নিয়ে তার জন্য অপেক্ষা করছে। ঘুম ভেঙ্গে মিনু জাকির হোসেনের উদ্দেশ্যে লম্বা এক চিঠি লিখে ফেলল, তার জীবনের জমানো সমস্ত ভালবাসার না বলা কথা দিয়ে।
কিন্তু বিয়েটা ভেঙ্গে গেলো। দরাদরিতে পোষালো না। 
এর কিছুদিন পর আবার মিনুকে দেখতে এলো। ছেলে কিন্তু এবারে সত্যি সত্যি রাজপুত্র। যেমন উঁচালম্বা, তেমন গায়ের রঙ। ভাল চাকরি করে। নাম আসাফউদ্দলা খান। আসাফউদ্দলা খানকে মিনুর ভারী পছন্দ হলো। সে রাতেও মিনু আসাফউদ্দলা খানকে স্বপ্ন দেখল। 
বিয়ে কিন্তু সেটাও ভেঙ্গে গেলো। মেয়ে পছন্দ হল না। 
এর পরের বারও মিনুর খুব ভাল একটা সম্বন্দ এলো। পাত্রের সরকারী চাকরি, দেখতে ভাল, বংশ ভাল। কিন্তু তারা পছন্দ করে ফেলল মিনুর ছোট বোন অনুকে। এতো ভাল পাত্র মিনুর মা হাতছাড়া করতে নারাজ। অনুর সাথেই বিয়েটা হয়ে গেল। 
এরপর অনেকদিন চলে যায়। মিনুর আজকাল আর বিয়ের সম্বন্ধ আসে না। চুলে পাঁক ধরেছে, চোখের নিচে কালি পড়েছে। মিনু কিন্তু এখনো স্বপ্ন দেখে দিগন্ত থেকে ছুটে আসা এক পঙ্খিরাজ ঘোড়া তার দোর গোঁড়ায় দাড়িয়ে। শুধু রাজপুত্রের চেহারাটা ঝাপসা ঝাপসা।


সোরাব ভাই ? সোরাব ভাই ? মতির ডাকে ঘুম ভাঙল সোহরাবের । অল্প ঘুমের মানুষ সে। এক ডাকেই জেগে উঠলো। কিন্তু বিছানা ছাড়ল না। শরীরটা আর আগের মত নেই ।
-সোরাব ভাই ? ও সোরাব ভাই ?

পুরোপুরি ঘুম ভেঙে গেছে সোহরাবের । জোয়ান বয়সের মত এখন আর লাফ দিয়ে উঠে বসতে পারে না । সময় লাগে । বয়সকালে ঘোড়ার মত তেজি ছিল সে । কাঠের চৌকিতে মট মট শব্দ করে উঠে বসে সোহরাব ।

-খাড়া মতি , আইতাছি । জগ থেকে এক গ্লাস পানি খায় সে ।

আজকে উত্তরের বিলে যাওয়ার কথা মতির সাথে। জাল বাছতে হবে । মানুষে কারেন্ট জাল পাতে ওদিকে । অনেক মাছ আটকা পরে । নিজেদের জালের মাছ ছাড়াও অন্যদেরও জাল বাছে ওরা । তাই এই ভোর রাতে যাওয়া । বারতি সাবধানতা । ভোরের আলো ফোটার আগে মাছগুলো তাজা তাজা হাটে নিতে হবে । তাজা মাছের দাম ভালো । সকাল বেলা ভালো দাম মেলে ।

-কত বেলা হল ?

ভাবে সোহরাব । চোখে এখনো ঘুম ঘুম । ফযরের
বেলাতেও তার ঘুম পায় ? ভেবে অবাক হয় সে । 
হায়রে বয়স !

- সোরাব ভাই ? ও সোরাব ভাই ? - আইতাছি কইলাম না ! খাড়া !
মতি থেমে যায় । নতুন বিয়ে করেছে সে । অল্প বয়স – উত্তেজনা বেশি । এক সময় এ দিন তারও ছিল । দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে সোহরাব । হাতে একটা বেতের ঝুড়ি আর মাছ মারার আট ফলার ট্যাঁটা নিয়ে কবাট খুলে বেরিয়ে এল সোহরাব । বাইরে অন্ধকার । কিন্তু পথ চলা যায় । এইবার কিছু টাকা পয়সা জমিয়ে একটা টর্চ লাইট কিনতে হবে । না হয় কোনদিন আবার সাপখোপে কামড়িয়ে বসে !
- বউডা ভালো নি তর , মতি ? আস্তে গলায় জানতে চায় সোহরাব ।
-হ । ফিসফিসিয়ে জবাব দিল মতি । পাছে কেউ শুনে ফেলে !
আশেপাশে ঘর বাড়ি আছে । মাঝে মাঝে বাঁশঝাড় । এবড়ো থেবড়ো মাটির রাস্তা । উষ্টা খেল সোহরাব । খিস্তি করল সে । মতি হাঁটছে সাচ্ছন্দে । যেন উড়ে উড়ে যাচ্ছে । হায়রে বয়সকাল ! ভাবে সোহরাব । হঠাৎই এক বাড়ির আড়াল থেকে বেরিয়ে এল একটি কালো ছায়া । চারপায়ে হাঁটছে। দাড়িয়ে পড়েছে মতি । সোহরাবের সামনে । দাড়িয়ে পড়েছে সোহরাবও । অন্ধকারে চোখ জ্বলছে সে কালো ছায়ার । ওরা এক চুলও নড়ছে না । নিঃশ্বাস বন্ধ করে দাড়িয়ে আছে । আরও কিছুটা এগিয়ে আসে ছায়াটি । হাফ ছাড়ে সোহরাব । একটা কুকুর ! হাড় জিরজিরে । ওদের থেকে হাত দশেক দূরে দাড়িয়ে পড়লো কুকুরটি । ডাকছে না । শুধু মুখ দিয়ে ঘড়ঘড় শব্দ বের হচ্ছে । গায়ে রোম ওঠা শব্দ । হঠাৎই যেভাবে এসেছিলো , সে ভাবেই পিছিয়ে গেলো । মিলিয়ে গেল বাড়ির ভিটার আড়ালে । ওরা হাটতে শুরু করল আবার । এবার আর কথা বলল না সোহরাব । বাড়তি সাবধানতা । কেউ চিনে ফেললে সমস্যা । কুকুরটি ঘেউ ঘেউ করলে বিপদ ছিল । করল না কেন ? সোহরাব বুঝে উঠছে না ! ভাবল হয় রোগে ধরেছে , না হয় তার মতই বুড়িয়ে যাচ্ছে । হাটতে হাটতে গ্রামের শেষ মাথায় চলে এল ওরা । সামনে একটা খাল । তার উপরে ব্রিজ । মান্ধাতা আমলের লোহার ব্রিজ । কাঠের পাটাতন । ক্ষয়ে গেছে জায়গায় জায়গায় । ব্রিজের ওপারে একসারি তালগাছ । একটা পুরান ভিটাও আছে । কেউ থাকে না । তার মাঝ দিয়ে সরু মাটির রাস্তা । দু’ধারে আগাছা ঘাসে ভরা । বৃষ্টি হয়েছিল হয়ত । রাস্তা কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে আছে । এই রাস্তা নিয়ে গ্রামে অনেক গল্প আছে । অশুভ সব গল্প । এইখানে নাকি উনারা থাকেন। নাম নিতে হয় না । উনাদের পথে পরলে নাকি খারাপ কিছু হয় । এরকম অনেক হয়েছে । একবার একজনকে পেয়েছিল গ্রামবাসী । মরা । কিন্তু তার মাথা থেকে কোমর অবধি ছিল মাটির নিচে গাথা । শুধু পা দুইটা উপরে । আর একবার পেয়েছিল একজনের গাই গরু । শুধু চার পা মাটির উপরে । গা শিরশির করা গল্প এগুলো । কিন্তু গল্প । হাসে সোহরাব । কত এলো গেলো এই রাস্তায় ! আর সোহরাব এমন কাউকেই দেখে নাই যে নিজের চোখে ঘটনাগুলো দেখেছে । সবই শোনা গল্প। অনেকদূর এগিয়ে গেছে মতি । চিন্তা করতে করতে খেয়ালই করে নি সে ।
- ঐ । খাড়া – আস্তে হাট ব্যাটা !
মতি দাড়ায় না । তালগাছ গুলর মাঝ দিয়ে সরসর করে হাটতে থাকে । দৌড়াচ্ছে যেন । সোহরাব ভড়কে যায় । মতির পায়ের দিকে তাকায় সে । গোল বাঁশের মত সে পা । কোন আঙ্গুল নেই ! পায়ের পাতা বলে কিছু নেই ! সোহরাব গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠে
– খাড়া কইছি – ট্যাঁটা মারুম কইলাম ! দাড়িয়ে পরল মতি ।
ধীরে ধীরে ঘুরে দাড়ায় সে । শরীর কেপে উঠলো সোহরাবের । জ্ঞান হারাল না সে । বড় সাহসী মানুষ। ছুড়ে মারল হাতের ট্যাঁটা । এ আর যাই হোক – মতিনয় । বাতাস খান খান করে হেসে উঠলো মতি । ——♪
————————♪————————♪——————♪—

- সোরাব ভাই ? সোরাব ভাই ? পুবের আকাশে আলো ।
- সোরাব ভাই ? ও সোরাব ভাই ? - তোমার ভাই না একটু আগেই বাইরে গেলো তোমার লগে !
- কন কি ? আমি তো আইলাম মাত্রই । দরজা খুলে বেরিয়ে এল সোহরাবের স্ত্রী । মোমেনা । চোখে মুখে প্রশ্ন নিয়ে তাকিয়ে আছে মতির দিকে । ——————♪———————♪————————
সোহরাব কে পাওয়া গিয়েছিল । পুরাতন লোহার ব্রিজের সেই খানে । তালগাছগুলোর কাছে । খালের পাড়ে । মরা । মাথা থেকে কোমর অবধি খালের পাড়ে কাদায় গাথা । শুধু পা দুইটা বেরিয়ে ছিল । ——————♪————————♪—————
♪———

-মতি ভাই ? মতি ভাই ?
মতির টিনের ঘর । শীতের দিন। গলা পর্যন্ত দুইটা মোটা কাথা আর লেপ টেনে শুয়ে আছে । চোখে ঘুম নেই । গত কয়েক রাত ধরেই এমন হচ্ছে। পাশে তার ঘুমান দেড় বছরের ছেলে – আজিজুল , আর তার বউ । ♪রাতে ঘুমাতে পারে না মতি ।
-মতি ভাই ? মতি ভাই ? মতির মাথার কাছ থেকে আধ হাত দূরে টিনের বেড়া । তার ঠিক ওপাশে দাড়িয়েই যেন ডাকছে তাঁকে । মাঘ মাসের শীতেও ঘেমে গেছে মতি । ঘাড় ঘুরিয়ে বউ – বাচ্চার দিকে তাকাল মতি । না , ওরা কিছু শুনতে পায় নি । পা টেনে লেপের নিচে গুটিয়ে আনে মতি। মুখ পর্যন্ত টেনে দেয় লেপ । আজিজুলকে জড়িয়ে ধরে সে । তার মাথার কাছের টিনের বেড়ায় খচখচ শব্দ *। আবার ডেকে উঠে
– মতি ভাই ? ও মতি ভাই ? কয়েক রাত ধরে তিনবার ডেকেই চলে যায় সে।
মতি সাড়া দেয় না ।

১। আইপডটা কানে গুঁজে দেবো কিনা ভাবছি। নিতান্ত অভদ্রতা হয়ে যায়, কিন্তু কোনো বিকল্প খুঁজে পাচ্ছিনা। বয়স্ক ভদ্রলোক একটানা কথা বলে যাচ্ছেন। কথা বলা শুরু করেছেন অন্ততঃঘন্টা খানেক। আমি কিছুটা বিস্মিত ও হচ্ছি বটে। এই শীর্নশরীরের প্রায় বৃদ্ধ মানুষটা এতো কথা বলার শক্তি পাচ্ছেন কি করে?
যাচ্ছি ট্রেনে। এক জেলা শহরে চাকরীর ইন্টারভিউ দিতে। সুন্দর রোদেলা দিন। ট্রেনে ভীড় কম। জানালার পাশে বসেছি। পাশের সীট খালি ছিলো। চমৎকার বাতাস। আইপডে লোপামুদ্রার গান। উপভোগ করছিলাম।

প্রতীতির কথা মনে পড়ছিলো। পড়শু ডেটিং হলো আসিফের ফ্ল্যাটে। মেয়েটার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। গল্প এখন শেষ পর্যায়ে। আমাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই,ছিলো ও না কোনোদিন। তবু হয়তো আমার মনে পড়বে প্রতীতিকে, প্রতীতির ও আমাকে মনে পড়বে কোনো অবসরে।
প্রতিবার ডেটিংয়েই প্রতীতি আমাকে শরীর দেয় আর দেয় এক একটা চমৎকার কবিতার বই। ও মেয়ে নিজে কবিতা টবিতা পড়েনা কিন্তু আমাকে পড়ায়। সম্পর্ক হওয়ার আগে কোন একদিন বোধ করি ওকে জানিয়েছিলাম আমি, কবিতায় আমার প্রেমের কথা। আমার অনেক কিছুতেই পরে ও আর বিশ্বাস রাখেনি, কিন্তু এই অপ্রয়োজনীয় ব্যাপারটা মনে গেঁথে রেখেছে।

ব্যাগ খুলে কবিতার বইটা বের করি। জয় গোস্বামীর কবিতা সংগ্রহ। আমি জয়ের কবিতার তেমন ভক্ত নেই। বড্ড বেশী লিরিক্যাল। তবু এই ছুটেচলা রোদেলা দুপুর, প্রায় নির্জন রেলের কামরা, হুহু বাতাস- আমি প্রতীতির প্রতি প্রেম ও কবিতার প্রতি কামবোধে আক্রান্ত হই।

আইপড খুলে গলায় ঝুলিয়ে রাখি। বিশ্রাম নাও লোপামুদ্রা। ইতঃস্তত পাতা উল্টাই। বিন্যস্ত অক্ষর ও ছন্দের সমাবেশ। একটা পাতায় চোখ আটকায়ঃ

'একফোঁটা রক্ত শুধু ঝরে পড়ল,মাটি ফেটে গেলো আঘাতে? শিশুদের মরামুখ ভেসে উঠল কি একবার? তা কেউ দেখেনি,বড় মেঘ করে এসেছিল। নইলে দেখা যেত এই ফাঁকা
খেয়াঘাটে চাঁদ চেপে ধরে আছে রক্তে ভেসে যাওয়া নাড়ী তার।'

কেমন যেনো লাইনগুলো ।অকারনে আমার গা কেঁপে উঠে।

২। 'দেখলেন ঘটনা। এইবার কিন্তু খেলা জমবো। সব চোর ধরা পড়তেছে'

ভদ্রলোক আবার কথা শুরু করেছেন। তার কোলের উপর কটকটে হলুদ রংয়ের খবরের কাগজ। এই আরেক আপদ শুরু হয়েছে আজকাল। ত্রানের টিন,রিলিফের কম্বল,ঘুষের টাকা,তেরশো নদী,ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল গিলে খেয়ে ধরা পড়ছে বন কর্মকর্তা,পুলিশের দ্বিতীয়কর্তা,রানীমাতার জৈষ্ঠ্য সন্তান। আর এইসব নিয়ে সিনেমা সিনেমা গল্প জুড়ে দেয়া চায়ের টেবিল থেকে ট্রেনের কামরা পর্যন্ত। বিরক্ত লাগে। যন্ত্রনাময় দিনকাল।

-'আল্লাহর রহমত ছিলো, তাই দেশটা বেঁচে গেলো। আগামী ২০ বছর সেনাবাহিনীর ক্ষমতায় থাকা দরকার,কি বলেন?'

আমি মনে মনে গালি দেই। 'মর্ষকামী ভোদাই পাবলিক'। এই সব পাবলিকের কারনেই হাঁটুতে ঘিলুওয়ালারা ছড়ি ঘোরায়। যখন তখন রাস্তায় কানধরে উঠবস করাবে তবু পাবলিকের প্রীতি দূর হয়না। মুখে কিছু বলিনা। খামোখা কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। আর দিনকাল আসলেই খুব সুবিধার না।

ট্রেনের গতি কমে আসছে। প্লাটফর্মে ঢুকতে আর খুব দেরী নেই। ভদ্রলোক কোমর উঠানো শুরু করেছেন। এবার তার ব্যাগ গোছানো শুরু করবেন নিশ্চিত। ট্রেন থামার আগেই দরজায় গিয়ে ভীড় জমাবেন, সেটা ও নিশ্চিত প্রায়। মনে মনে আরেক প্রস্ত গালি দেই।
-'তা বাবাজী এসে গেলাম প্রায়। অনেক কথা বললাম । কিছু মনে করেননি তো। আমারো একটা ছেলে আছে । আপনার বয়সীই হবে। না , আপনার চেয়ে আরেকটু বড়ো'
অর্থহীন কথা। আমি আতংকিত হই। নতুন কোন গল্প শুরু হয় বোঝি।
-'তবে আমার ছেলেটা আপনার মতো নয়'
-আমার মতো নয়, মানে?

নিজের অজান্তেই এই প্রথম আমি তার কথার জবাব দেই।
-আমার ছেলেটা পংগু। একটা মাত্র ছেলেই আমার সর্বনাশ। লোকটা এখন পংগু ছেলের গল্প ফেঁদে সাহায্য না চাইলেই হয়। পোষাক আষাকে ভদ্রলোক যদি ও। বিশ্বাস কি? যা দিনকাল পড়েছে। আমার আর কথা না বাড়ানোই নিরাপদ।

তবু কি আশ্চর্য! আমিই পালটা প্রশ্ন করি। আমার কন্ঠ কি কিছুটা আর্দ্র?
-দুঃখিত। কি হয়েছিলো ওনার? কোন অসুখ,কোন দুর্ঘটনা?
-দুর্ঘটনা? হ্যাঁ। তা দুর্ঘটনা ও বলতে পারেন কি এক অদ্ভুত কারনে আমার খুব আগ্রহ হচ্ছে এই বৃদ্ধের পংগু ছেলেটার কথা জানতে।
-বলুন না প্লিজ? কি হয়েছিলো?
-১৯৯০। মনে আছে বাবাজী? বয়স কতো তখন? ১০/১২? আমার ছেলেটা তখন ১৮। কলেজে পড়ে। আন্দোলন করে। আর্মি পিটিয়ে ওর কোমরের হাড় আর দুপা ভেংগে দিয়েছিলো। বুট দিয়ে থেঁতলে দিয়েছিলো ওর পুরুষাংগ'

আমি বেদনার্ত হই। অন্ততঃ হওয়া উচি। একজন বাবার মুখ ঝুলে পড়েছে তার একমাত্র পুত্রের পংগুত্বের গল্প বলতে গিয়ে।

কিন্তু আমি বেদনার্ত হইনা। এই বকবকে বুড়ো একটু আগেই বলছিলেন এই দেশে যেনো আরো ২০ বছর সেনা শাসন থাকে। এই বুড়োকে আমি মনে মনে গালি দিয়েছিলাম 'মর্ষ্কামী ভোদাই' বলে। আমার এবার তাকে শুনিয়ে শুনিয়ে গালি দিতে ইচ্ছে করে।
-আমি দুঃখিত। কিন্তু আপনিই আগে বললেন অন্ততঃ আরো ২০ বছর সেনাশাসন দরকার। অথচ আপনার ছেলে ওদের হাতেই। আসলে আপনাদের মতো মানুষদের জন্যই...'

ট্রেন প্লাটফর্মে ঢুকছে এবার। গতি প্রায় থেমে এসেছে। বৃদ্ধ তার ব্যাগ গুছিয়ে হাঁটা শুরু করে দিয়েছিলেন। ফিরলেন। ফিরে এলেন আমার কাছে। আমার চোখে চোখ রাখলেন। কেমন ঘোলাটে। গা শিউরে উঠে। গলা নামালেন। হিসসিস করে বললেন-

২০ নয়, ২০০ বছর ধরে আমি আর্মির শাসন চাই। প্রত্যেক মা-বাবার একটা করে ছেলে গুলী খেয়ে মরুক নয়তো পংগু হয়ে পড়ে থাক বিছানায়, আমার ছেলের মতো।

বাইরে চমৎকার রোদ। তবু কেনো জানি সহসা তীব্র শীতের কাঁপুনি আমার সমস্ত জুড়ে। গন্তব্য পৌঁছে গেছি। উঠা দরকার। উঠতে পারছিনা। পারছিই না আর।

পড়ার টেবিলে বসে সীমা গনিতের অনুশীলনী গুলোর সমাধান করছে। ক্লাশ এইটের মেধাবী ছাত্রী। বরাবরই পরীক্ষায় প্রথম হয়। গ্রাম্য একটি স্কুলের শ্রেণীতে প্রথম হতে হয়তো বেশী মেধার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু সীমার আছে গডগিফটেড (জন্মগত) কিছু ক্ষমতা। স্কুলের অংক-বিজ্ঞানের শিক্ষকরা সব সময় তটস্থঃ থাকে কখন কোথায় সীমা তাদের অজান্তে করা ভুলটি বের করে ফেলে বা এমন কোন প্রশ্ন করে বসে যার উত্তর দিতে ঘাম বের হয়ে যাবার অবস্থা হয়। 
গ্রামের বাড়ীর টিনের ঘর। বাড়ীতে আর কেউ নেই। বাবা বাজারে আর মা গেছে পাশেই মামার বাড়ীতে, ছোট একটা ভিটা পেরিয়ে। ছোটভাই মনে হয় খেলার মাঠে প‌ৌঁছে গেছে এতক্ষনে। 

বেশ গরম পড়েছে। ভিতরের ঘরে দেয়ালের দিকে মুখ করে সীমা পড়ার টেবিলে বসে। এতে পড়ার প্রতি মনোযোগ অক্ষুন্ন থাকে। বাতাসের প্রয়োজনে সব দরজা জানালা খোলা। কোথায় যেন খুট করে একটা শব্দ হলো। কান পাতলো সীমা। না, আর কোন শব্দ নেই। অনুশীলনীতে আবার মন দিলো। 

হঠাৎ শরীরটা কেন যেন শিরশির করে উঠলো সীমার। পিঠের কাছে কি কারো নিঃশ্বাস পড়লো! ঘুরে দেখতে গেলো সে। কিন্তু তার আগেই মুখ-চোঁখ ঢেকে গেলো মোটা চাদরে। কেউ শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরে চাদরটা আরও চেপে বসালো মুখে। চেচিয়ে কাউকে ডাকবে, কোন শব্দই করতে পারছে না সীমা।

এরপর যা ঘটলো তার জন্যে কোনভাবেই প্রস্তুত ছিলো না সীমা। বাঁধা দেওয়ার সব রকমের চেষ্টা করেই ব্যর্থ হলো সে। জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হারিয়ে সে অনুভূতিহীন নীরব পাথরে পরিনত হলো! 

সেই সময়
১৫ মে ২০১১। সকাল ১১টা।

পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট, সিআইডি (CID) এর জাদরেল ইন্সপেক্টর অমিতা বসু পুরনো একগাঁদা ফাইল নিয়ে ঘাটাঘাটি করছে। বিষয় গত ৫০ বছরের নামকরা সব সিরিয়াল কিলিং ঘটনা। এরিয়া সারা বাংলাদেশ। এরকম ১৭টি বিভিন্ন সিরিয়াল কিলারের অস্তিত্ব জানা যায়। এর মধ্যে ১৪ জনকে ধরে আইনের আওতায় আনা হয়। বাকী ৩জনের কোন টিকির ছোয়া পায় নি পুলিশ বাহিনী।

সিরিয়াল কিলার বলতে বুঝায় এমন একজন খুনী যে নির্দিষ্ট কোন কারনে বা কোন কারন ছাড়াই শুধুমাত্র বিকৃত রুচি চরিতার্থ করতে একই স্টাইলে একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটায়। প্রতিটি সিরিয়াল কিলারের সাধারনত নির্দিষ্ট প‌্যাটার্ণ থাকে হত্যাকান্ডের। এই প‌্যাটার্ন দ্বারাই ঐ সিরিয়াল কিলারকে ধরার চেষ্টা করা হয়।

যেমন এক সিরিয়াল কিলার মহব্বতজান খান। তার এলাকা ছিলো সিলেট। ১৯৭৭ এর এপ্রিলে প্রথম সে হত্যা করে ২০ বছর বয়সী এক তরুনীকে। চিকন নাইলনের রশি গলায় ব্যবহার করে হত্যাকান্ড ঘটায়। পরবর্তী দুই বছরে সে ২১টি একই রকম ঘটনা ঘটায় সিলেট শহরে। টার্গেট ছিলো ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীরা। পরে সে ধরা পড়ে এর জাঁদরের পুলিশ অফিসারের হাতে। বিচারে ফাঁসী হয়ে যায় তার।

এরকম টেংকু জামাল, কামাল মুসা, মীর মীরন.... ১৪ জন সিরিয়াল কিলারের ফাইল নিয়ে স্টাডি করছেন অমিতা বসু। সাথে ৩টা আনসলভড সিরিয়াল কিলার মিস্ট্রি নিয়ে গবেষনা।

৫০ বছরে এই ১৭ সিরিয়াল কিলার মোট ৩২০টি হত্যাকান্ড ঘটায় দেশজুড়ে। 

বিভ্রান্ত সময়
২৭ আগস্ট ১৯৯৩। সন্ধ্যা ৭টা। রমনা পার্ক।

মীর মীরন বসে আছে পার্কের এক কোনের বেঞ্চে। অনেকক্ষন ধরে অপেক্ষায় আছে সে। প্রতিদিন এ সময়টায় পার্কে এসে কিছুক্ষন হাটাহাটি করে লোকটি। জানে আজও আসবে। গত ২৫ দিনের পর্যবেক্ষনে এ নিয়মের কোন বাত্যয় দেখে নি। এটাই মীরনের প্রথম শিকার। বুকটা একটু কি কেঁপে উঠলো তার? 

প্রচন্ড বদরাগী মীরন। কিন্তু সেটা মনে মনে। কখনো কেউ তাকে জোরে একটা কথাও বলতে শুনে নি। কারো সাথে কথা কাটাকাটি হওয়ার উপক্রম হলে সেই প্রথমে আত্মসমর্পন করে। কারো সাথে কখনো মারামারি হয় না। প্রচন্ড রাগটাকে মনে মনেই কবর দেয় মীরন। কিন্তু আর কত! আর কত সহ্য করবে সে? এবার আর নয়। 

এক মাস আগে লোকটা গুলিস্থান মাজারের সামনে সরাসরি সামনে থেকে ধাক্কা লাগায় মীরনের বুকে। কিছু বুঝে উঠার আগেই রাস্তার গড়াগড়ি যায় মীরন। উঠে দাড়িয়ে ধুলা পরিষ্কার করতে যাবে আবার ধুলায় পপাত ধরণীতল। এবার লোকটা ইচ্ছে করেই ধাক্কা মেরে ফেলে দিলো। সাথে বকাবকির ফুলঝুড়ি, যেন প্রথম ধাক্কাটা মীরনেরই দোষ। কিছুই বললো না মীরন। আবার উঠে ধুলা পরিষ্কার করতে লাগলো। আশেপাশে কিছু লোক জমা হয়ে মজা দেখছে। মুহুর্তে চরম হতাশা আর প্রচন্ড বিরক্তি ভয়ংকর ক্রোধে রূপ নেয়। ধাক্কা দেওয়া সেই লোকটা, আশে পাশে জমা হওয়া মানুষগুলো, আর পুরো সমাজের উপরে এক কঠিন বিতৃষ্ণা জমে তার মনে। ঠিক করে এবার সে প্রতিশোধ নিবেই। যথেষ্ট হয়েছে আর নয়। আর কাউকে কখনোই ছাড় দেওয়া যাবে না।

ধুলো ময়লা পরিষ্কার করে নীরবেই সরে পড়ে সে। কথা কাটাকাটি, মারামারি, ঝগড়া মীরনের কাজ নয়। সে তার নিজের মতো করে প্রতিশোধ নিবে। প্রতিশোধ নিবে অসুস্থ এ সমাজের নোংরা কীটগুলোর উপরে যারা প্রতিনিয়ত অপরের দুর্বলতার সুযোগ নেয়। 

তখন থেকেই লোকটাকে অনুসরন করতে থাকে মীরন। লোকটার পিছে পিছে বাসে মগবাজার। সেদিনই তার বাসার ঠিকানা চিনে নেয়। পরে নিয়মিত ফলো করে তার রুটিন সম্পর্কে জেনে নেয়।

আজ সেই দিন। আজকেই কাজটা শেষ করবে মীরন ঠিক করেছে। এরপর আর কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। 

মীরনের ঠিক পিছনেই একটি বয়স্ক মহিলা এসে দাড়ালো। বয়স হবে ৪৫ এর মতো। সাথে ছোট একটি হাতব্যাগ। 

-আপনি মীরন!

চমকে উঠে মীরন। ঝট করে দাড়িয়ে পড়ে। ঘুরে পিছনে তাকায়। এই মেয়েটিই কি কথা বললো?

- কিন্তু আপনি কে?

-আপনি মীর মীরন। বাড়ী জামালপুর। বাবা মীর মাসুম। মা রাহেলা বেগম। আপনি পীর ইয়ামেনী মার্কেটে নুপুর শাড়ী বিতানে হিসাব রক্ষক হিসেবে চাকুরী করেন।

-হ্যা, কিন্তু আপনাকে তো চিনতে পারছি না।

দীর্ঘ একটা মুহুর্ত কিছুই বললো না মহিলা। আর মীরন যেন সম্মোহিতের মতো চেয়ে থাকলো তার দিকে। এরপরের ঘটনা ঘটে গেলো দ্রুত গতিতে। চটপটে মহিলা তার হাতব্যাগ থেকে একটা কোল্ট রিভলবার বের করে সরাসরি মীরনের কপালে দুটি বুলেট ঢুকিয়ে দিলো। রিভলবারে সাইলেন্সার লাগানো থাকায় খুব একটা শব্দ হলো না। আশেপাশের লোকজন কিছু বুঝে উঠার আগেই চোখের পলকে ভ্যানিশ হয়ে গেলো সে।

অন্য সময়
১৫ মে ২০১১। সকাল ১১টা।

পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট, সিআইডি (CID) এর জাদরেল ইন্সপেক্টর অমিতা বসু পুরনো একটা ফাইল নিয়ে বসেছেন। ফাইলটা তার নিজেরই তৈরী। গত ৫০ বছরের ১৪টা রহস্যময় হত্যাকান্ড সমম্বিত করে বানানো। এরিয়া সারা বাংলাদেশ। প্রতিটি হত্যাকান্ডের ধরন একই। সরাসরি মাথায় দুটি করে গুলি করে নির্মম হত্যাকান্ড গুলি করা হয়। নিশ্চয়ই এটা কোনো সিরিয়াল কিলারের কাজ!

ফাইলটা নিয়ে আবার গবেষনায় মেতে উঠলো অমিতা। অবসরে এটা তার একটি প্রিয় কাজ। নিজেরই তৈরী করা কেসটার বিভিন্ন পয়েন্টগুলো আবার পড়তে লাগলো-
১) এ সিরিয়াল কিলার ৪০ বছর (১৯৬০ থেকে ২০০০) বছর ধরে হত্যাকান্ড ঘটিয়ে গেছে। এরকম দীর্ঘ সময়ের সিরিয়াল কিলার মনে হয় সারা পৃথিবীর কোথাও ছিলো না। 
২) হত্যাকান্ডে রিভলবার ব্যবহুত হলেও গুলীর অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা করে তার সাথে কোন আগ্নেয়াস্ত্রের গুলীর হুবহু মিল পাওয়া যায় নি। 
৩) ব্যবহৃত গুলির অবশিষ্টাংশ যে গুলো পাওয়া গেছে তা হুবহু এক। আর দেখা গেছে তা একই রিভলবার থেকে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ ৪৫ বছর জুড়ে খুনী একই রিভলবার ব্যবহার করে গেছে।
৪) কয়েকটা ক্ষেত্রে খুনীর আঙ্গুলের ছাপ পাওয়া গেছে। 

কি মনে করে আঙ্গুলের ছাপের একটা কপি নিলেন অমিতা। ইমার্জেন্সী ট্যাগ লাগিয়ে আইটি সেকশনে পাঠালেন ন্যাশনাল ডেটাবেজে চেক করার জন্যে। 

২০ মিনিটের মধ্যেই যখন নাম-ঠিকানা-ছবি সহ একটা রিপোর্ট চলে আসলো বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন ইন্সপেক্টর অমিতা।

ঐতিহ্যবাদী এক বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের নামকরা প্রফেসর ডঃ রাশিদা রাহাত সীমা। বয়স ৪৪ বছর।

কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব! ১৪টি খুনের প্রথমটি ঘটে ১৯৬০ সালে। আর প্রফেসর রাশিদা'র জন্মই ১৯৬৬ সালে!!

অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টায় প্রফেসর রাশিদা'র সাথে এপয়েন্টমেন্ট ঠিক করে নিলেন ইন্সপেক্টর অমিতা। বিকাল পাচটায়প্রফেসরের বাসায়।

বিকাল ৫টা ১০ মিনিট।

প্রফেসর রাশিদার স্টাডি রুমে তার সামনে বসে আছেন ইন্সপেক্টর অমিতা। অমিতা এসেছেন সিভিল ড্রেসে-তদন্তটাকে এখনই অফিসিয়াল করতে চান না তিনি।ইন্সপেক্টর তার তৈরী করা বিশেষ ফাইলটা নিয়ে এসেছেন। পরিচয় পর্ব শেষ। দুজনেই রং চা পান করছেন। প্রফেসরই প্রথম কথা বললেন। 

-আমি জানি ইন্সপেক্টর আপনি কেন আমার সাক্ষাতপ্রার্থী।

এবার বিস্ময়ে বাকহারা হয়ে গেলেন অমিতা। প্রফেসর আবার মুখ খুললেন-

-আপনার ফাইলটা দেখতে পারি?

অমিতা মন্ত্রমুগ্ধের মতো ফাইলটি এগিয়ে দেয়। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পুরো ফাইলটা দেখলেন প্রফেসর। তাকে সস্তুষ্ট মনে হলো। ফাইলটি ফেরত দিয়ে তিনি উঠলেন। লক করা ফাইল কেবিনেট থেকে আরেকটি পেটমোটা ফাইল বের করে এগিয়ে দিলেন ইন্সপেক্টরের দিকে। 

ফাইলটি হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করলেন অমিতা। যতই পড়তে লাগলেন ততই তার মাথা ঘুরতে লাগলো। ফাইলের সিল-সিগনেটচার দেখে মনে হচ্ছে এটা ইন্সপেক্টর অমিতারই তৈরী। এ ফাইলের বিষয় বস্তু ১৭জন সিরিয়াল কিলার ও তাদের হাতে নিহত ৩২০ জন ভিকটিম। অথচ এ ফাইল অমিতা কখনোই দেখেন নি। আর ১৭ জন সিরিয়াল কিলারের নাম পরিচয় ১৪ জন অমিতার জানা। তারা অমিতার আনা ফাইলের ১৪ জন ভিকটিম।

চিন্তা ভাবনা উল্টা-পাল্টা হয়ে যেতে লাগলো অমিতার। প্রফেসরকে কেন যেন তার এক জটিল মানসিক রোগী মনে হতে লাগলো। যে কিনা অমিতাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

এবার প্রফেসর কথা শুরু করলেন। 

-ইন্সপেক্টর অমিতা। আপনার হাতে যে দুটো ফাইল আছে দুটোই আপনার নিজ হাতে তৈরী। আর দুটোই সঠিক। আপনি হয়তো ভাবছেন এটা কিভাবে সম্ভব। সেটাই আমি ব্যাখ্যা করবো। সাথে আপনিও খুঁজে পাবেন আপনার বর্তমান ফাইলের ১৪ হত্যাকান্ডের খুনীকে। 

একটু দম নিলেন প্রফেসর। হয়তো ভাবলেন কোথা থেকে শুরু করবেন।

-পিএইচডিতে আমার গবেষনার বিষয় ছিলো সময়পরিভ্রমন এর সম্ভাব্যতা। সেখানে আমি এমন কিছু সূত্র আবিষ্কার করি যার মাধ্যমে সময় পরিভ্রমন করা সম্ভবপর বলে আমার মনে হয়েছিলো। কিন্তু সূত্রগুলো আমি চেপে যাই আমার গবেষনাপত্রে। চেপে যাওয়ার কারন হলো, সময়ভ্রমন যদি সম্ভব হয় তাহলে মূহুর্তে পুরো পৃথিবীর বিশাল পরিবর্তন করে দেওয়া সম্ভব এর মাধ্যমে। অথচ পরিবর্তনটা ভালো না খারাপ তা বলা যাবে না আগে থেকে।

ঠান্ডা চা'এর কাপে আনমনে চুমুক দিলেন প্রফেসর।

-দেশে ফিরে আমি আমার সূত্রগুলো নিয়ে আরও ব্যাপক কাজ শুরু করি। এক সময়ে নিশ্চিত হই তত্ত্বগতভাবে সময় পরিভ্রমন সম্ভব। এর পরে এরকম একটি যন্ত্র বানানোর কাজ শুরু করি। বিষয়টা আসলে এতো সহজ ছিলো না। প্রথমে ভেবেছিলাম গাড়ী বা রকেটের মতো একটা যন্ত্র বানাবো যার ভিতরে থেকে আমরা সময় পরিভ্রমন করতে পারবো। কিন্তু সেটা আমার কাছে গ্রহনযোগ্য মনে হয় নি। পরে চিন্তা করি এটা হতে পারে ঘড়ির মতো ছোটখাটো একটা যন্ত্র। এটি একজন মানুষকে নিয়ে সময় পরিভ্রমন করতে পারবে। এরকম আকারেই আমি আমার টাইম ট্রাভেল মেশিনটি তৈরী করি। তবে টাইম মেশিন আকারে ছোট হওয়ায় এর সময় পরিভ্রমন সীমাও কম। সর্বোচ্চ ১০০ বছর আগে পরে এটি যেতে পারে।

অমিতার মনে হলো সে একটা জলজ্যান্ত পাগলের সামনে বসে আছে। হয়তো কয়েকটা খুন করে সে নিজেও পাগল হয়ে গেছে বা পাগলের ভান করছে। একে এখনই হাজতে ভরা উচিত।

-আপনি জানেন না ইন্সপেক্টর! শুধু আপনি কেন আমি ছাড়া আর কেউ জানে না যে আমার ভয়ংকর কষ্টকর একটা অতীত আছে। এখনো দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে উঠি। টাইম ট্রাভেল যন্ত্রটাকে আমি আমার যন্ত্রনা দূর করার কাজে ব্যবহার করতে চেয়েছিলাম। তবে প্রথমে চিন্তা করি আরো কিছু ভালো কাজ করা যায় কিনা। সমাজের দুষিত কীটগুলোকে ধ্বংস করা আর নিরীহ কিছু মানুষকে রক্ষা করতে পারাটাকেই আমার অনেক বড় কাজ মনে হয়। 

-কয়েকটি মাধ্যম থেকে আমি আপনার নাম জানতে পারি যে আপনার কাছে বাংলাদেশের বড় বড় সব সিরিয়াল কিলারের লিস্ট আছে। আপনার সাথে যোগাযোগ করে আমি সেটা সংগ্রহ করি। আপনি নজেই আমার বাসায় এসেছিলেন আমার হাতের এই ১৪ জন ধৃত সিরিয়াল কিলার ও তাদের ভিকটিমদের লিস্ট নিয়ে। বিস্তারিত আপনাকে না জানালেও আমি বলেছিলাম এর একটা সমাধান আপনাকে দেওয়ার চেষ্টা করবো। কিন্তু সেটা ছিলো অন্য এক সময়। আমি অতীতে গিয়ে একে একে ১৪ জন সিরিয়াল কিলারদের কিল করে আসি তারা কিল শুরু করার আগেই। ফলে তাদের ভিকটিমরা বেঁচে যায়। 

-এর ফলে টাইম লাইনে কিছু পরিবর্তন হয়ে যায়। আপনার রেকর্ডও সেইমত পরিবতন হয়ে যায়। আপনার দেওয়া লিস্টটা আমার সাথে সাথেই থাকতো সময় পরিভ্রমনের সময়। তাই সেটি অক্ষত থাকে সেই পরিবর্তন থেকে।

মলিন হাসলেন প্রফেসর।

-এই নিন ১৪ খুনের আসামী আপনার সামনে হাজির। গ্রেফতার করুন তাকে। দুঃস্বপ্নের তাড়ায় বলতে গেলে কখনোই সুস্থ জীবন-যাপন করতে পারি নি। ঘর-সংসার করতে পারি নি। বাবা-মা মারা গেছেন অনেক আগে। একমাত্র ছোটভাই বিদেশে। এ বাড়ীতে আমি একা একাই থাকি। জীবনে আমার আর কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই।

চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বসে থাকেন অমিতা। কিছুই মাথায় ঢুকছে না তার। ঘরের বিষন্ন নীরবতা বড় পীড়া দেয় তাকে। সেটা ভঙ্গ করেন প্রফেসর-

-তবে আমার ছোট আরেকটা কাজ আছে। সে কাজে আমি আপনাকে সাথে রাখতে চাই। এর কারন আছে অবশ্য। পরে বুঝতে পারবেন। চলুন আমার সাথে। 

মন্ত্রমুগ্ধের মতো উঠে দাড়ায় অমিতা। ভারী কাঠের দরজা খুলে পাশের ঘরে প্রবেশ করেন প্রফেসর। সাথে অমিতা। ঘরটা মিউজিয়মের মতো। একটি স্টীলের ভারী বক্স খুলে অমিতাকে দেখালেন সারসার ঘড়ির মতো টাইম মেশিন সাজানে। ৫ টা আছে। সাথে ম্যানুয়াল কিভাবে কাজ করবে। দুটো নিয়ে একটা অমিতাকে পড়িয়ে দিলেন আরেকটা নিজে পড়লেন।

দুই জনের মেশিনেই সময় সেট করলেন ২৩শে জুন ১৯৮০, বিকাল ৫টা। সাথে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশও সেট করে দিলেন।

পূর্ব সময় ২
২৩ জুন ১৯৮০। বিকাল ৫টা।

গ্রামের একটি বাড়ীর সামনের এক ভিটায় নিজেদের ফিরে পেলেন প্রফেসর ও অমিতা। অব্যবহৃত ভিটায় বেশ কিছু ঝোপ-জঙ্গল । চারিদিক নিস্তব্ধ। কোন এক ভয়ংকর ঘটনার বয়ে প্রকৃতি যেন নীরব হয়ে পড়েছে। ৩০ বছর আগে দেখা বাড়ীর প্রতিটি দৃশ্য তার মনে পড়ে গেলো মুহুর্তের মধ্যেই। কিন্তু কিছুই বুঝতে পারছিলো না অমিতা। প্রফেসরের চোখের কোনে কি চিকচিকে পানি দেখা যাচ্ছে! 

হাত টেনে অমিতাকে নিয়ে এক ঝোপে সেধিয়ে গেলেন তিনি। নজর রাখলেন বাড়ীর সামনের বড় ঘরটার দরজার দিকে। একটু পড় কার যেন হালকা পদশব্দ পাওয়া গেল। সাদা চেকশার্ট ও ছাপার লুংগী পড়া কে ও ? ও পাড়ার সাদিদ না? ৩০ বছরের পুরানো সেই অচেনা শয়তানকে আজ চিনতে পারলেন প্রফেসর। চোঁখ ধকধক করে উঠলো তার। ঘরে ঢুকে গেছে সাদিদ। একটু পরে অমিতার হাত ধরে ঘরের দিকে হালকা পায়ে নিঃশব্দে দৌড় দিলেন তিনি। হাতে বেরিয়ে এসেছে অত্যাধুনিক মডেলের কোল্ট রিভলবার। থ্রিলের গন্ধ পেয়ে অভ্যাসবশতঃ অমিতার হাতেও চলে এলো তার নিজস্ব পিস্তল।

ভিতরের ঘরে ঢুকে তারা দেখলো সেই লোকটা ধস্তাধস্তি করছে কিশোরী এক মেয়ের সাথে। মেয়েটার পুরো মুখ চাদর দিয়ে আটকানো। তাই সে কোন শব্দ করতে পারছে না। ধীরে ধরে পরাস্ত হয়ে যাচ্ছে মেয়েটা। সরাসরি পিস্তল তুললেন প্রফেসর। এখনি হয়তো গুলী করে দিবেন। তার হাত টেনে ধরলো অমিতা। এগিয়ে গিয়ে পিস্তলের এক বাড়িতে অজ্ঞান করে দিলো অচেনা লোকটাকে। অজ্ঞান দেহটাকে তুলে ধরে বাইরে নিয়ে গেলো ভিটার কাছে।

প্রফেসর এগিয়ে গিয়ে মুখের চাদর সরিয়ে দিলেন কিশোরী মেয়েটির। হাতের বাধনও খুলে দিলেন। ভয়ার্ত দৃষ্টিতে সে তাকালো প্রফেসরের দিকে। 

-আর কোন ভয় নেই তোমার। নিজেকেই নিজে শোনাচ্ছেন যেন প্রফেসর। শয়তানটার উপযুক্ত ব্যবস্থা করেছি। সামনে আর কখনোই কোন ভয় তাড়া করে ফিরতে পারবে না তোমাকে। 

মেয়েটার মনের ভয়ংকর অনূভুতির পুরোটাই অনুভব করতে পারছেন তিনি। ৩০ বছর পরে হলেও ভয়ংকর প্রতিটা মূহুর্ত এখনো জ্যান্ত হয়ে তাড়া করে বেড়ায় তাকে। পরম মমতায় তিনি জড়িয়ে ধরলেন আপনাকে যদি একটু ভয়ও দুর করা যায় কোমল স্পর্শে!

হিসাব মতো ঠিক ৩০ মিনিট পরে ভাইয়ের বাড়ী থেকে ফিরে এলো কিশোরীর মা। আবার কান্নায় বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন প্রফেসর। কতদিন পর! কেমন আছো মা? 

কিন্তু প্রশ্নটা মনেই থেকে গেলো। অমিতা চলে এসেছে। দুজনে মিলে বুঝালেন কিশোরীর মাকে কি ঘটতে চলেছিলো। এর মধ্যে আরও লোকজন চলে এসেছে। 

দুরপথে যাচ্ছে তাই বিদায় নিয়ে নিলো প্রফেসর ও অমিতা। সময় ঠিক করে নিজস্ব সময়ে চলে এলেন তারা।

নতুন সময়

প্রফেসরের বাড়ীর সেই মিউজিয়ামে নিজেকে আবিষ্কার করলেন অমিতা। কিন্তু প্রফেসর কোথায়? ঘরের আর জিনিস পত্রই বা কোথায়?

ঘর থেকে বের হয়ে আরও অবাক হলো। প্রফেসরের স্টাডি রুমটার সবকিছুই কেমন যেন অচেনা মনে হচ্ছে। বাইরে চলে এলো সে। 

বাড়ির সামনে ছোট্ট একটা বাগান। সেখানে চেয়ারে এক বয়স্ক মহিলা বসে আছে। চোঁখে ভারী কাঁচের চশমা। সামনে আরেকজন কমবয়সী মেয়ে বসা কোলে বাচ্চা সহ। এগিয়ে গেলো অমিতা। প্রফেসরকে চিনতে পারলো। কিন্তু প্রফেসর তাকে চিনছে বলে মনে হলো না।


দুই জনেই প্রশ্নবোধক দৃষ্টি নিয়ে তাকালো অমিতার দিকে। অমিতা ভেবে পেলো না সে কি বলবে। তাই প্রথমেই নিজের পরিচয় দিলো ইন্সপেক্টর অমিতা, সিআইডি বলে। আইডি কার্ডও দেখালো। এ সব ক্ষেত্রে পুলিশের পরিচয় টনিকের কাজ দেয়। 

-আপনি আমাকে চিনতে পারছেন না প্রফেসর?

-কে প্রফেসর! 

অবাক হলো বয়স্ক মহিলা। আমি তো প্রিন্সিপাল রাশিদা রাহাত সীমা। নতুন বাংলা কলেজের চলতি দায়িত্বে আছি। আমি কি আপনাকে চিনি? নাকি কোন কাজে এসেছেন। আপনাকে কেন যেন চেনা চেনা মনে হচ্ছে!

প্রিন্সিপাল রাশিদা ভারী চশমার আড়াল থেকে অমিতার চেহারাটা ভালো করে দেখার চেষ্টা করে যায়। তার মনে হতে থাকে অনেক অনেক বছর আগে দেখা কারও সাথে এই মহিলার চেহারার কেমন যেন একটা অদ্ভুত মিল আছে! অবাক হয়ে ভাবতে থাকে সে ...তাও কি সম্ভব!

গ্রামে এক গোঁপেশ্বর বাবু। ইয়া লম্বা গোঁপজোড়া। মুখের দুই ধার হইতে দুইটি গোঁপের গুচ্ছ ২০-৩০ হাত ওপরে উঠিয়াছে। রোজ তেল আর আঠা লাগাইয়া গোঁপেশ্বর বাবু তার গোঁপজোড়াকে আরও শক্ত করিয়া রাখে। গ্রামের ছোটরা গোঁপেশ্বর বাবুর বড়ই ভক্ত।
ওই আগডালে পাকা আমটি রাঙা টুকটুক করিতেছে। ঢিল দিয়া কিছুতেই সেটি পাড়া যাইতেছে না।
গোঁপেশ্বর বাবু পথ দিয়া যাইতে ছেলেরা তাকে ধরিয়া বলিল, আমটি পাড়িয়া দাও। গোঁপেশ্বর বাবু তার গোঁপে একটু তা দিয়া গোঁপজোড়া আমের সঙ্গে আটকাইয়া মারিল এক টান। অমনি আমটি পড়িয়া গেল। ছেলেরা কলরব করিয়া কুড়াইয়া লইল। শুধু কি আম! ওই আগডালের পাকা কুল, জামগাছের জাম আর খেজুরগাছের কাঁদিভরা পাকা খেজুর! যখন দরকার গোঁপেশ্বর বাবুকে ডাকিয়া আনিলেই পাড়িয়া দেয়। সেই জন্য ছেলেদের দলে গোঁপেশ্বর বাবুকে লইয়া কাড়াকাড়ি। এর মধ্যে হইল কি? কোথা হইতে গ্রামে আসিল এক দাড়িওয়ালা মিঞা। ২০-৩০ হাত লম্বা দাড়ি। চলিতে মাটিতে পড়িয়া যায়। যে পথ দিয়া যায়, দাড়িতে পথের ধুলা-বালু ঝাঁটাইয়া লইয়া যায়। পাড়ার বউ-ঝিয়েরা তাকে বড়ই খাতির করে। দেখিলেই বলে, দাড়িওয়ালা মিঞা, আইস, আইস, পান খাইয়া যাও। দাড়িওয়ালা মিঞা বাড়িতে আসিলে বউদের আর উঠান ঝাঁট দিতে কষ্ট করিতে হয় না। উঠানের ওপর দিয়া ঘুরিয়া গেলেই উঠানের যা কিছু খড়-কুটা ধুলা-বালি তার দাড়িতে জড়াইয়া উঠানখানাকে সাফ করিয়া দিয়া যায়। শুধু কি তাই! কারও বাড়িতে ছেলের ভাত খাওয়ানি, মেয়ের বিবাহ, বহু লোক খাওয়াইতে হইবে। মাছের জন্য আর জেলের পথ চাহিয়া থাকিতে হইবে না। দাড়িওয়ালা মিঞাকে পুকুরে বা নদীতে নামাইয়া দিলেই হইল। রুই, কাতল, বোয়াল যত মাছ দাড়িওয়ালা মিঞার দাড়িতে আটকাইয়া আসিবে। তারপর ধরিয়া লইয়া যত পারো রান্না করো, খাও। সেই জন্য বউদের মধ্যে দাড়িওয়ালা মিঞার খুব খাতির। ছোটরা কিন্তু গোঁপেশ্বর বাবুকেই ভালোবাসে।
সেবার হইল কি? দেশে আসিল এক নতুন রকমের বাঘ। আজ ওর ছাগল লইয়া যায়, কাল ওর গরু লইয়া যায়। শুধু কি তাই! ছোট ছেলে মায়ের কোলে বসিয়া বোতলে দুধ খাইতেছে, কোথা হইতে বাঘ আসিয়া তাহার হাত হইতে বোতলটি কাড়িয়া লইয়া গেল। বাঘের জ্বালায় ছোটদের বিস্কুট, লজেন্স, চিঁড়ে, মুড়ি কিছুই খাইবার উপায় নাই। কোথা হইতে বাঘ আসিয়া কাড়িয়া লইয়া যায়। শুধু কি তাই। মুন্দিরার মায়ের পানের ডিবা, রহিমের মায়ের তামাক পোড়ার কৌটা, করিম বুড়োর হুঁকো-কলকে কখন যে বাঘ আসিয়া ছোঁ মারিয়া লইয়া গেল, কেউ টের পাইল না। এই কথা রাজার কানে গেল।
রাজা সমস্ত দেশে ঢোল পিটাইয়া দিলেন। যে বাঘ মারিতে পারিবে, তাকে হাজার এক টাকা পুরস্কার আর যে গ্রামে সে থাকে, সে গ্রাম তাকে লাখেরাজ দেওয়া হইবে। অর্থাৎ সে গ্রামের লোক রাজাকে খাজনা দিবে না। যে বাঘ মারিবে তাকেই দিবে। খবর শুনিয়া গোঁপেশ্বর তার গোঁপে তেল দিতে দিতে ভাবিল, যদি বাঘ মারিতে পারি তবে কি মজাই না হইবে! সমস্ত গায়ের লোক আমাকে খাজনা দিবে। আমি পায়ের উপর পা ফেলিয়া কেবল আরাম করিব।
দাড়িওয়ালা মিঞাও তাহার দাড়িতে তা দিতে দিতে ভাবিল, যদি বাঘ মারিতে পারি, তবে কি মজাই না হইবে। হাজার এক টাকার ফুলেল তেল কিনিয়া কেবল দাড়িতে মাখাইব।
সন্ধ্যা হইলে গোঁপেশ্বর বাবু গ্রামের একধারে যাইয়া তাহার গোঁপজোড়া মেলিয়া ধরিয়া বসিয়া রহিল।
দাড়িওয়ালা মিঞা গ্রামের ওই ধারে বনের মধ্যে তাহার দাড়ির জাল ফেলিয়া বাঘের জন্য অপেক্ষা করিতে লাগিল।

রাতের এক প্রহর গড়াইয়া দুই প্রহর হইল। বাঘের কোনো দেখা নাই। দুই প্রহর গড়াইয়া প্রভাত হয় হয়। বাঘের কোনো দেখা নাই। এধারে গোঁপেশ্বর বাবু গোঁপ মেলিয়া, ওধারে দাড়িওয়ালা মিঞা। এমন সময় হনহন করিয়া বাঘ হুংকার করিয়া গোপেশ্বর বাবুর সামনে আসিয়া তাড়া করিল। অমনি আর বাঘ যায় কোথায়? গোঁপেশ্বর বাবু বাঘের গলায় তার গোঁপজোড়া দিয়া গলফাঁস লাগাইয়া দিল। গোঁপসমেত গোঁপেশ্বর বাবু সমেত টানিয়া-হেঁচড়াইয়া বাঘ ছুটিল ওদিক পানে। ওদিকে তো দাড়িওয়ালা মিঞা দাড়ির জাল পাতিয়া বসিয়াই আছে। বাঘ যাইয়া আটকা পড়িল তাহার দাড়ির জালে। দাড়ি ধরিয়া বাঘকে টানিতে টানিতে দাড়িওয়ালা মিঞা যাইয়া রাজসভায় উপস্থিত।
‘মহারাজ! ইনাম, বকশিশ দিন। বাঘ ধরিয়া আনিয়াছি।’ দাড়ির তলা হইতে গোঁপেশ্বর বাবু চিৎকার করিয়া বলে, ‘মহারাজ! ও বাঘ ধরে নাই। আমি বাঘ ধরিয়াছি। এই দেখুন, আমার গোঁপের সঙ্গে বাঘ আটকাইয়া আছে।’ এত টানাহেঁচড়ায় বাঘটি তখন মরিয়া গিয়াছে।
অবাক হইয়া সকলেই দেখিলেন, সত্যিই তো গোঁপেশ্বর বাবুর গোঁপের সঙ্গে বাঘ আটকাইয়া আছে।
তখন এ বলে, আমি বাঘ ধরিয়াছি—ও বলে, আমি বাঘ ধরিয়াছি। অনেক বিচার করিয়া রাজা বলিলেন, তোমরা কেউ কারও চাইতে কম নও। দুইজনেই পুরস্কার পাইবে।
পুরস্কার পাইয়া গোঁপেশ্বর বাবু আর দাড়িওয়ালা মিঞা গ্রামে সুখে বাস করিতে লাগিল।

বাহিরে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে, বৃষ্টির অবিরাম ধারার মত ইমরানের চোখ দিয়ে অবিরাম ধারা বইছে। আজকে ওর পুরোনো মনের কথাগুলো কেন জানি দোলা দিচ্ছে।একটা সময় ইমরান কত সপ্ন দেখতো, লাল, নীল, রঙিন সপ্ন। কিন্তু সেই সপ্ন গুলোই আজ ওর কাছে বিভিশিখাময় সপ্ন। সে একটু বেশিইই আবেগি তাইতো সপ্নগুলো ওকে এখনও তাড়িয়ে বেড়ায়।
ইমরান আর দশটা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলের মতই অতি সাধারণ একটি ছেলে। ছোট একটি শহর থেকে এস,এস,সি শেষ করে সে আসে ঢাকায় নিজের জীবনটাকে গড়ার জন্য ভর্তি হয় একটি বেসরকারি কলেজে। সেই থেকে শুরু হয় সপ্ন দেখা। একদিন মিরপুর থেকে উত্তরা যাওযার পথে বাসে পরিচয় হয় ওর পুর্নার সাথে, তখন সে সবে ইন্টার দ্বিতীয় ইয়ারের ছাত্র। সে বাসে বসে ছিল অলসতার কারণে একটু ঘুম ঘুম ও লাগছিল ওর। পাশের সিটটা ফাকা। 
-'Excuse me' আমি কি এখানে বসতে পারি? পুর্নার কন্ঠ শুনে নিমিষেই সকল অলসতা কেটে যায় ওর। 
-হ্যা, বসুন। No problem
এভাবেই শুরু হয় তাদের বন্ধুত্ব। বাসে বসে নিজেদের নাম জানা ছাড়া আর কোন কথাই হয় না ওদের। বাস এসে থামে গন্তব্যে, দুইজন চলে যায় নিজেদের গন্তব্যে। কিন্তু পুর্না যে ওর মনে দোলা দিয়ে গেছে তা ও বুঝতে পারে যখন সে দেখল যে সে নিজের অজান্তেই পুর্নার কথা ভাবছে। সে মনে মনে ভাবে যদি আর একবার ওর সাথে দেখা হত। হঠাৎ, একদিন সে কলেজে পুর্নাকে দেখতে পায়। অনেক ভেবে সে পুর্নাকে ডাকে,
-এই,পুর্না।
-আরে, আপনি এখানে?
-আমি তো এখানেই পড়ি।
-তাই?
-হ্যা।
-আমিও এখানে ভর্তি হলাম।
-আচ্ছা পরে কথা হবে,
বলে চলে গেল পুর্না। এভাবে আস্তে আস্তে বন্ধুত্ব তারপর প্রেম। কিন্তু নিয়তির পরিহাস, প্রেম করলেই মনে হয় কষ্ট পেতে হয়। একটা বছর অতি আনন্দে কাটার পর হঠাৎ করে পুর্না ইমরানকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। বাধ্য হয়ে ইমরান পুর্না কে বলে তুমি কি আমাকে এড়িয়ে চলতেছ? উত্তরে পুর্না বলে তোমার সাথে আমি continue করতে পারছি না, i am sorry, plz don't disturb me again. .
ওই সময়, খানিকের জন্য ইমরানের পৃথিবীটা স্তন্ধ হয়ে যায়। কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলে সে। শুরু হয় ওর পাগলামি। ইমরান তারপর ও পুর্না কে ফোন করে টেক্সট করে কিন্তু ও কোন উত্তর দেয় না মাঝে মাঝে অপমান করে পুর্না । একদিন ইমরান কষ্ট গুলো কে সহ্য করতে না পেরে নিজের হাতের রগ নিজেই কাটে, কিন্তু সবার জন্য বেচে যায় ইমরান, ইমরানের বন্ধু সুলতান পুর্নাকে এগুলো জানালে সে বলে ওই রকম হাত সবাই কাটতে পারে। একটা সময় ইমরান বদলে যায়। কারো সাথে কথা বলে না, কার সাথে মিশে না। এই নিঃসঙ্গ তার মাঝে সে বন্ধু বানায় ফেসবুককে। . ফেসবুকে নতুন কিছু বন্ধু হয় ওর, আস্তে আস্তে সব কিছু ভুলে যায় সে। পড়াশুনা শেষ করে একটা চাকুরীতে ঢুকেছে সে এই সময়ের মাঝে কাউকে কখন ও ভালবাসেনি সে, কারণ একটাই আবার যদি কষ্ট পেতে হয়। এইতো, কালকেই ও পুর্নাকে দেখল অন্য একটি ছেলের সাথে বোটানিক্যাল গার্ডেন এ ঢুকতে।
বাহিরের আকাশে বৃষ্টি থেমে যায় কিন্তু ইমরানের মনের বৃষ্টি থামেনা, এ বৃষ্টি হয়ত থামবে না, অনন্ত কাল ঝরে যাবে।

রাজার বাগানের কোণে টুনটুনির বাসা ছিল। রাজার সিন্দুকের টাকা রোদে শুকুতে দিয়েছিল, সন্ধ্যার সময় তার লোকেরা তার একটি টাকা ঘরে তুলতে ভুলে গেল।

টুনটুনি সেই চকচকে টাকাটি দেখতে পেয়ে তার বাসায় এনে রেখে দিলে, আর ভাবলে, ‘ঈস! আমি কত বড়লোক হয়ে গেছি। রাজার ঘরে যে ধন আছে, আমার ঘরে সে ধন আছে!’ তারপর থেকে সে খালি এই কথাই ভাবে, আর বলে-
রাজার ঘরে যে ধন আছে
টুনির ঘরেও সে ধন আছে!
রাজা তাঁর সভায় বসে সে কথা শুনতে পেয়ে জিগগেস করলেন, ‘হ্যাঁরে? পাখিটা কি বলছে রে?’
সকলে হাত জোড় করে বললে, ‘মহারাজ, পাখি বলছে, আপনার ঘরে যে ধন আছে, ওর ঘরেও নাকি সেই ধন আছে!’ শুনে রাজা খিলখিল করে হেসে বললেন, ‘দেখ তো ওর বাসায় কি আছে?’
তারা দেখে এসে বললে, ‘মহারাজ, বাসায় একটা টাকা আছে।’
শুনে রাজা বললেন, ‘সে তো আমারই টাকা, নিয়ে আয় সেটা।’
তখুনি লোক গিয়ে টুনটুনির বাসা থেকে টাকাটি নিয়ে এল। সে বেচারা আর কি করে, সে মনের দুঃখে বলতে লাগল-
‘রাজা বড় ধনে কাতর
টুনির ধন নিলে বাড়ির ভিতর!’
শুনে রাজা আবার হেসে বললেন, ‘পাখিটা তো বড় ঠ্যাঁটা রে! যা ওর টাকা ফিরিয়ে দিয়ে আয়।’
টাকা ফিরে পেয়ে টুনির বড় আনন্দ হয়েছে। তখন সে বলছে-
‘রাজা ভারি ভয় পেল
টুনির টাকা ফিরিয়ে দিল।’
রাজা জিগগেস করলেন, ‘আবার কি বলছে রে?’
সভার লোকেরা বললে, ‘বলছে যে মহারাজ নাকি বড্ড ভয় পেয়েছেন, তাই ওর টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন।’
শুনে তো রাজামশাই রেগে একেবারে অস্থির! বললেন, ‘কি, এত বড় কথা! আন তো ধরে, বেটাকে ভেজে খাই!’
যেই বলা, অমনি লোক গিয়ে টুনটুনি বেচারাকে ধরে আনলে। রাজা তাকে মুঠোয় করে নিয়ে বাড়ির ভিতর গিয়ে রানীদের বললেন, ‘এই পাখিটাকে ভেজে আজ আমাকে খেতে হবে!’
বলে তো রাজা চলে এসেছেন, আর রানীরা সাতজনে মিলে সেই পাখিটাকে দেখছেন।
একজন বললেন, ‘কি সুন্দর পাখি! আমার হাতে দাও তো একবার দেখি।’ বলে তিনি তাকে হাতে নিলেন। তা দেখে আবার একজন দেখতে চাইলেন। তাঁর হাত থেকে যখন আর-একজন নিতে গেলেন, তখন টুনটুনি ফসকে গিয়ে উড়ে পালাল।
কি সর্বনাশ! এখন উপায় কি হবে? রাজা জানতে পারলে তো রা থাকবে না।
এমনি করে তাঁরা দুঃখ করছেন, এমন সময় ব্যাঙ সেইখান দিয়ে থপ-থপ করে যাচ্ছে।
সাত রানী তাকে দেখতে পেয়ে খপ করে ধরে ফেললেন, আর বললেন, ‘চুপ চুপ! কেউ যেন জানতে না পারে। এইটেকে ভেজে দি, আর রাজামশাই খেয়ে ভাববেন টুনটুনিই খেয়েছেন!’
সেই ব্যাঙটার ছাল ছাড়িয়ে তাকে ভেজে রাজামশাইকে দিলে তিনি খেয়ে খুশি হলেন। তারপর সবে তিনি সভায় গিয়ে বসেছেন, আর ভাবছেন, ‘এবারে পাখির বাছাকে জব্দ করেছি।’
অমনি টুনি বলছে-
‘বড় মজা, বড় মজা,
রাজা খেলেন ব্যাঙ ভাজা!’
শুনেই তো রাজামশাই লাফিয়ে উঠেছেন। তখন তিনি থুতু ফেলেন, ওয়াক তোলেন, মুখ ধোন, আরো কত কি করেন। তারপর রেগে বললেন, ‘সাত রানীর নাক কেটে ফেল।’
অমনি জল্লাদ গিয়ে সাত রানীক নাক কেটে ফেললে।
তা দেখে টুনটুনি বললে-
‘এই টুনিতে টুনটুনাল
সাত রানীর নাক কাটাল!’
তখন রাজা বললেন, ‘আন বেটাকে ধরে! এবার গিলে খাব! দেখি কেমন করে পালায়!’
টুনটুনিকে ধরে আনলে।
রাজা বললেন, ‘আন জল!’
জল এল। রাজা মুখ ভরে জল নিয়ে টুনটুনিকে মুখে পুরেই চোখ বুজে ঢক করে গিলে ফেললেন।
সবাই বললে, ‘এবারে পাখি জব্দ!’
বলতে বলতেই রাজামশাই ভোক্‌ করে মস্ত একটা ঢেকুর তুললেন।
সভার লোক চমকে উঠল, আর টুনটুনি সেই ঢেকুরের সঙ্গে বেরিয়ে এসে উড়ে পালালো।
রাজা বললেন, ‘গেল, গেল! ধর্‌ ধর্‌!’ অমনি দুশো লোক ছুটে গিয়ে আবার বেচারাকে ধরে আনলো।
তারপর আবার জল নিয়ে এল, আর সিপাই এসে তলোয়ার নিয়ে রাজা মশায়ের কাছে দাঁড়াল, টুনটুনি বেরুলেই তাকে দু টুকরো করে ফেলবে।
এবার টুনটুনিকে গিলেই রাজামশাই দুই হাতে মুখ চেপে বসে থাকলেন, যাতে টুনটুনি আর বেরুতে না পারে। সে বেচারা পেটের ভিতরে গিয়ে ভয়ানক ছটফট করতে লাগল!
খানিক বাদে রাজামশাই নাক সিঁটকিয়ে বললেন, ‘ওয়াক্‌।’ অমনি টুনটুনিকে সুদ্ধ তাঁর পেটের ভিতরের সকল জিনিস বেরিয়ে এল।
সবাই বললে, ‘সিপাই, সিপাই! মারো, মারো! পালালো!’
সিপাই তাতে থতমত খেয়ে তলোয়ার দিয়ে যেই টুনটুনিকে মারতে যাবে, অমনি সেই তলোয়ার টুনটুনির গায়ে না পড়ে, রাজামশায়ের নাকে পড়ল।
রাজামশাই তো ভয়ানক চ্যাঁচালেন, সঙ্গে-সঙ্গে সভার সকল লোক চ্যাঁচাতে লাগল। তখন ডাক্তার এসে ওধুধ দিয়ে পটি বেঁধে অনেক কষ্টে রাজামশাইকে বাঁচাল।
টুনটুনি তা দেখে বলতে লাগল-
‘নাক-কাটা রাজা রে।
দেখ তো কেমন সাজা রে!’
বলেই সে উড়ে সে-দেশ থেকে চলে গেল। রাজার লোক ছুটে এসে দেখল, খালি বাসা পড়ে আছে।

MKRdezign

{facebook#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {twitter#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {google-plus#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {pinterest#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {youtube#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {instagram#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL}

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget