শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের অনুদান প্রদানে নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২৯শে আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ বিভাগের সচিব মো: সোহরাব হোসাইন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক আদেশ জারি করেছে মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অনুন্নয়ন রাজস্ব বাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থউপযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে বিতরণের লক্ষ্যে এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
নতুন এ নীতিমালা অনুযায়ী বরাদ্দকৃত অর্থের ৭৫ শতাংশ সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী, ১০ শতাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ১৫ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যয় করা হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য যে ৭৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ তার মধ্যে ষষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৫ শতাংশ, ৯ম থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ শতাংশ এবং স্নাতক ও তদুর্ধ্ব পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ শতাংশ হারে প্রদান করা হবে।
একক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ১৫ শতাংশ বরাদ্দের মধ্যে নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমমানের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ শতাংশ, মাধ্যমিক ও সমমানের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬০ শতাংশ এবং বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও তদুর্ধ্ব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩০ শতাংশ বণ্টন করা হবে।
এছাড়া আবেদন গৃহীত হলে কোন একক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ৫০ হাজার, একজন শিক্ষক এককভাবে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা করে পাবেন।
ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষেত্রে হিসেবটা আলাদা। মাধ্যমিকের একজন শিক্ষার্থী ৫ হাজার, উচ্চ মাধ্যমিকের ৬ হাজার এবং স্নাতক বা সমমান বা এর চেয়ে উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকা পাবে।
যারা আবেদন করতে পারবে- স্বীকৃতপ্রাপ্ত বা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের মেরামত ও সংস্কার, আসবাবপত্র তৈরি, খেলাধুলার সরঞ্জাম, প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধী বান্ধব করাসহ পাঠাগারের উন্নয়ন কাজের জন্য মঞ্জুরীর আবেদন করতে পারবে। তবে অনগ্রসর এলাকার অস্বচ্ছল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অথচ প্রতিষ্ঠানের লেখাপড়ার মান ভাল এরকম প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তাদের দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনার জন্য আবেদন করতে পারবেন। ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষেত্রে যারা দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনার শিকার তারা আবেদন করতে পারবে। তবে দুস্থ, প্রতিবন্ধী, অসহায়, রোগগ্রস্থ, গরিব, মেধাবী, অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্র্থীদের অগ্রাধিকার থাকবে।


Post a Comment